ব্যবসায়ী অপহরণ, নির্যাতন ও ব্যাংক হিসাব লুট: কক্সবাজারে মূলহোতা নয়ন গ্রেফতার

কক্সবাজারে এক ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে অস্ত্রের মুখে জিম্মি রাখা, মারধর, জোরপূর্বক স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর আদায় এবং ব্যাংক হিসাব থেকে কয়েক লাখ টাকা আত্মসাতের ঘটনায় দায়ের হওয়া আলোচিত মামলার অন্যতম মূলহোতা এনায়েতুর রহমান প্রকাশ নয়নকে গ্রেফতার করেছে কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ।

মামলা দায়েরের পর থেকেই আসামিদের গ্রেফতারে তৎপর হয়ে ওঠে পুলিশ। এরই ধারাবাহিকতায় কক্সবাজার সদর মডেল থানার এসআই রাজিব পালের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে নয়নকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গ্রেফতার এড়াতে নয়ন দীর্ঘদিন বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে ছিল। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তার অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান পরিচালনা করা হয়। পরে কক্সবাজার শহরের একটি এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী নুরুল আমিন পেশায় একজন ব্যবসায়ী। গত ৪ মে ২০২৬ তারিখে মোটরসাইকেল সার্ভিসিং এবং একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা কেনার উদ্দেশ্যে তিনি কক্সবাজারে আসেন। কক্সবাজার কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকার সেতু মটর্সের সামনে পৌঁছালে সংঘবদ্ধ চক্রটি তার পথরোধ করে।

অভিযোগ অনুযায়ী, আসামিরা প্রথমে ভুক্তভোগীর মোটরসাইকেলের চাবি ছিনিয়ে নেয় এবং তার সঙ্গে থাকা লোকজনকে মারধর করে। পরে নুরুল আমিনকে জোরপূর্বক অপহরণ করে ঝিলংজা ইউনিয়নের লিংক রোড এলাকার একটি পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে যাওয়া হয়।

সেখানে তাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে বেধড়ক মারধর করা হয় এবং পূর্বপ্রস্তুত নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর আদায় করা হয়। পাশাপাশি অটোরিকশা কেনার জন্য সঙ্গে থাকা নগদ ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া ভুক্তভোগীর মোবাইল ফোনে থাকা ব্যাংকিং অ্যাপস ব্যবহার করে তার বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব থেকে কয়েক লাখ টাকা অন্য অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। পরে আরও মুক্তিপণ দাবি করা হলে ভুক্তভোগী অপারগতা প্রকাশ করেন। একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তিনি উদ্ধার হন।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত নয়নকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, এটি একটি সংঘবদ্ধ অপহরণ ও চাঁদাবাজ চক্রের কর্মকাণ্ড। পুরো চক্রকে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে।

এদিকে, আলোচিত এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা মূল আসামি গ্রেফতার হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করলেও ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকলকে দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।