ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে একই স্কুলের ছয়জন স্বাস্থ্য ক্যাডারে যোগদান

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার একই স্কুল থেকে ৪৮ তম (বিশেষ) স্বাস্থ্য ক্যাডারে চূড়ান্তভাবে সুপারিশ পেয়ে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছেন ছয়জন। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি তারা নিজ কর্মস্থলে যোগদান করেছেন। ৬ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ১জন এসএসসি ২০০৯ ব্যাচের, ১জন এসএসসি ২০১২, ১জন এসএসসি ২০১৩ ব্যাচের এবং বাকী ৩জন শিক্ষার্থী ২০১৪ ব্যাচের।

তারা হলেন ডাঃ আনিসুর রহমান রিয়াদ, ডাঃ নিশাদ ফারহানা এবং ডাঃ জয়িতা দাস। আর ২০১৩ ব্যাচের ডাঃ অনন্যা সরকার, ২০১২ ব্যাচের ডাঃ নির্জনা রাউত তন্বী এবং ২০০৯ ব্যাচের ডাঃ আনোয়ার রহমান ইমন। সদ্য যোগদানকৃত ৬ জন ঐতিহ্যবাহী ঈশ্বরগঞ্জ বিশ্বেশ্বরী পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। একই স্কুলের

ছয়জন স্বাস্থ্য ক্যাডারে যোগদান করায়

শিক্ষক ও সহপাঠীরা আনন্দিত এবং উচ্ছ্বাসিত। ইতিমধ্যে তাদের সহপাঠী ও শুভকাঙ্খীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুভেচ্ছায় ভাসিয়েছেন।

৪৮তম (বিশেষ) বিসিএস-এর মাধ্যমে যোগদানকৃত এসএসসি ২০১৪ ব্যাচের ৩ জনের মধ্যে ডাঃ আনিসুর রহমান রিয়াদ ময়মনসিংহ জেলার গৌরীপুরের পুম্বাইল গ্রামের ফজলুর রহমান ও রওশন আরা বেগম দম্পতির ছোট ছেলে।

তিনি ২০১৪ সালে ঈশ্বরগঞ্জ বিশ্বেশ্বরী পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি, ২০১৬ রয়েল মিডিয়া কলেজ থেকে এইচএসসি এবং শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ এমবিবিএস শেষ করেন। কয়েক বছর যাবৎ চাকরির প্রস্তুতি নিয়ে অবশেষে ৪৮তম বিসিএসে সফলতা লাভ করেন তিনি।

ডাঃ রিয়াদ জানায়,স্কুলের পাঠ শেষ করার আগেই আকস্মিক বাবার মৃত্যু, তারপর বাকি জীবন উনার প্রতিটা স্বপ্নের পিছনে ছুটে চলা৷ তার ধারাবাহিকতায় সরকারি চাকুরিতে যোগদান। আশা করি, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষদের নিজের মেধা, পরিশ্রম ও অধ্যবসায় দিয়ে সর্বোচ্চ সেবা পৌছে দিতে সক্ষম হব।

তিনি মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সহকারী সার্জন হিসেবে যোগদান করেছেন।

একই স্কুলের ডাঃ নিশাদ ফারহানা উপজেলার পৌর শহরের ধামদীর বাসিন্দা মোঃ গিয়াস উদ্দিন ও রায়হানা আক্তার-এর মেয়ে। ঈশ্বরগঞ্জ বিশ্বেশ্বরী পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০১৪ সালে এসএসসি, শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম কলেজ থেকে ২০১৬ সালে এইচএসসি এবং গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস শেষ করেন।

ডাঃ নিশাদ ফারহানা জানায়,দীর্ঘ পথচলার এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ আজ পূর্ণতা পেল। বছরের পর বছর নির্ঘুম রাত, অসংখ্য ত্যাগ, হতাশা আর অপেক্ষার ভেতর দিয়ে যে স্বপ্নটাকে আগলে রেখেছিলাম, আজ সেটাই বাস্তব। এই অর্জন শুধু আমার একার নয়—আমার বাবা-মা, পরিবার, শিক্ষক, সহপাঠী আর যারা নিঃশব্দে পাশে ছিলেন, সবার।

সামনে দায়িত্ব আরও বড় মানুষের সেবা, মানবতার পাশে দাঁড়ানো। আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা। সবার দোয়া চাই। তিনি কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সহকারী সার্জন হিসেবে যোগদান করেছেন।

অপর আরেক জন হলেন ডাঃ জয়িতা দাশ। শ্রী সঞ্জিত কুমার দাশ ও বীণা রাণী দাশের মেয়ে। তিনি পৌর শহরের ২নং এলাকার ঘাটলারপাড় দত্তপাড়ার বাসিন্দা। ২০১৪ সালে ঈশ্বরগঞ্জ বিশ্বেশ্বরী পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি, ২০১৬ সালে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম কলেজ থেকে এইচএসসি এবং ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ ডেন্টাল ইউনিট থেকে পড়াশোনা শেষ করেছেন।

ডাঃ জয়িতা দাশ জানায়,বিসিএস ক্যাডার হওয়া আমার জীবনের স্বপ্ন ছিল, এটা বাস্তবে হতে পেরে আমি সত্যিই খুব খুশি। আমার বাবা সারা জীবন চেয়েছিল আমরা তিন বোন যেন সরকারি চাকরি করি,বাবার স্বপ্ন পূরণ করতে পেরে আমি নিজেকে ধন্য মনে করছি। আমাদের ২০১৪ এসএসসি ব্যাচের ৩ জনের ৪৮ তম বিসিএস হওয়ায়, স্কুলের বন্ধু থেকে আমরা এখন সহকর্মী, এটা সত্যিই চমৎকার ব্যাপার।

তিনি আরও জানায় শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ডেন্টাল ইউনিটের ওএমএস ডিপার্টমেন্টে পিজিটি করেছি। বর্তমানে তিনি ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেন্টাল সার্জন হিসেবে যোগদান করেছেন।

ডাঃ অনন্যা সরকার অমরেশ সরকার ও বন্দনা রাণী পাল দম্পতির বড় মেয়ে। ২০১৩ সালে ঈশ্বরগঞ্জ বিশ্বেশ্বরী পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি, ২০১৫ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম কলেজ থেকে এইচএসসি এবং ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ এমবিবিএস শেষ করেন। ডাঃ অনন্যা সরকার জানায়, বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে যোগদানের মাধ্যমে প্রান্তিক পর্যায়ে মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় অবদান রাখার স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। তিনি ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সহকারী সার্জন হিসেবে যোগদান করেছেন।

ডাঃ নির্জনা রাউত তন্বী উপজেলার সদর ইউনিয়নের চরহোসেনপুর গ্রামের তাপস চন্দ্র রাউত ও প্রতিমা রাণী রাউত-এর মেয়ে। ঈশ্বরগঞ্জ বিশ্বেশ্বরী পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০১২ সালে এসএসসি,শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম কলেজ থেকে ২০১৪ সালে এইচএসসি এবং শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ডেন্টাল ইউনিট থেকে পড়াশোনা শেষ করেন।

ডাঃ নির্জনা রাউত তন্বী জানায়,আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে ডেন্টাল চিকিৎসক দের পক্ষ থেকে প্রান্তিক মানুষকে সার্ভিস দেয়া বা ক্যারিয়ার হিসেবে এগিয়ে যাওয়ার জন্য বিসিএস এর কোন বিকল্প নেই। তাই ব্যক্তিগত নানা টানা পোড়েনের মাঝখানে ৪৮তম বিসিএসই সিরিয়াসভাবে অংশগ্রহণ করেছিলাম। প্রথমবারেই বিসিএস হয়ে যাওয়ায় ব্যক্তিগতভাবে আমি অনেক খুশি আর নিজেকে ভাগ্যবান মনে করছি।

তিনি ডেন্টাল সার্জন হিসেবে হালুয়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদান করেছেন।

ডাঃ মোঃ আনোয়ার রহমান ইমন থানা রোড দত্তপাড়ার বাসিন্দা অধ্যাপক মজিবুর রহমান ও মমতাজ রহমানের ছেলে। তিনি ঈশ্বরগঞ্জ বিশ্বেশ্বরী পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ২০০৯ সালে এসএসসি , ২০১১ সালে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম কলেজ থেকে এইচএশসসি এবং ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস শেষ করেন।

তিনি পূর্বে মেডিকেল অফিসার(মা ও শিশু স্বাস্থ্য) হিসেবে পরিবার পরিকল্পনা ক্যাডারে কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ইউরোলজিতে উচ্চতর ডিগ্রী এমএস কোর্সে অধ্যয়নরত। ডাঃ মোঃ আনোয়ার রহমান ইমন জানায়,আলহামদুলিল্লাহ। সকল কিছুর জন্য সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা।

আন্তরিকতার সাথে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে এবং মানবিক গুণসম্পন্ন ভালো মানুষ হওয়ার জন্য সকলের কাছে দোয়া চাই। তিনি ৪৮তম বিসিএসে কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সহকারী সার্জন হিসেবে যোগদান করেছেন।

ডাঃ আনিসুর রহমান রিয়াদ ঈশ্বরগঞ্জ বিশ্বেশ্বরী পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে বলেন নিজেকে সঠিক ও যোগ্যতা সম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়তে পড়াশোনা ছাড়া বিকল্প আর কিছু নাই। এ বিষয়টি হাই স্কুল জীবনের প্রথমদিন থেকেই ধারণ করতে হবে।

১ ফেব্রুয়ারী শাহবাগের একটি স্বনামধন্য কনভেনশন হল-এ ৪৮তম বিসিএস (বিশেষ) পরীক্ষার (২০২৫) মাধ্যমে ৩ হাজার ২৬৩ জন প্রার্থীকে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের (বিসিএস) বিভিন্ন ক্যাডার পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ সময় সার্জনদের সাথে অনেক পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

সদ্য যোগদানকৃত ছয় সার্জন তাদের নিজেদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উপর ওয়ালার প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বীকার করেন। ১৯ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করার মাধ্যমে নতুন অধ্যায়ের সূচনা ঘটে।

ঈশ্বরগঞ্জ বিশ্বেশ্বরী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এ. কে. এম. মোস্তফা কামাল বলেন, আমাদের বিদ্যালয়ের ৬ জন শিক্ষার্থী একই বিসিএসে স্বাস্থ্য ক্যাডারে যোগ দেওয়ায় আমরা সবাই খুবই আনন্দিত। দোয়া করি তারা সাফল্য অর্জন করুক। সময় করে এই ৬ জন স্কুলে এসে বর্তমান শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণা দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।