এনজিও ঘর দখল নিয়ে নেত্রকোনার মদনে কৃষককে মারধর ও বসতঘর ভাংচুরের অভিযোগ

বেসরকারি সংস্থা কেয়ার বাংলাদেশ ও স্বাবলম্বী এনজিওর ঘর দখলকে কেন্দ্র করে আলী আকবর নামে এক কৃষককে মারধর ও সংস্থাটি ঘর ভাংচুর করার অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত আলী আকবরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় আলী আকবরের ছেলে শুক্রবার রাতে মদন থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। উপজেলার তিয়শ্রী ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামে এমন ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, দরিদ্র লোকজনের বিবাহ,গ্রামীণ বৈঠক ও এনজির সভা সমাবেশ করার জন্য ২০০৭ সালে কেয়ার বাংলাদেশ ও স্বাবলম্বী উন্নয়ন সমিতি ৪ শতাংশ ভূমি ভবানীপুর গ্রামের আলী আকবরসহ তাদের ভাইদের নিকট থেকে জমিটি ক্রয় করে। কয়েক বছর সমিতির কার্যক্রম পরিচালিত হয়। কার্যক্রম শেষ হয়ে গেলে জমি বিক্রেতা আলী আকবর এনজিও ঘরটি দখলে নেয়।
এ থেকে সমিতির লোকজন ও গ্রামবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছে। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেকেই ঘরটি সুবিধাভোগীরা আবারও দখলে নিতে উপজেলা প্রশাসন ,পুলিশ প্রশাসনের নিকট আবেদন করে। উপজেলা প্রশাসন এ নিয়ে দু’পক্ষের শুনানি করে এনজিও ঘরটি ৯০ দিনের মধ্যে ছেড়ে দিতে বলে আলী আকবরকে। তবে আলী আকবর নিজের ক্ষমতা বলে এনজিও ঘরটি নিজের বলে দাবি করে।
এমনকি ঘরটি আলী আকবর ছাড়বে না বলে গ্রামবাসীকে জানিয়ে দেয়। শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর গ্রামবাসী একত্রিত হয়ে ঘরটি দখলে নিতে চেষ্টা করে এবং এনজিও ঘরটি ভাংচুর ও বসত ঘরের মালামাল ভাংচুর করে। এ সময় আলী আকবর,তার স্ত্রী, ও ভাতিজারা বাধা দিলে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে আলী আকবর, আলী আকবের স্ত্রী মদিনা আক্তার,ভাতিজা আবু বক্কর, নূর কামাল, গ্রামবাসীর পক্ষে ইব্রাহিম আহত হয়।
গুরুতর আহত আলী আকবরকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। বাকী আহতরা মদন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ ঘটনায় আলী আকবরের ছেলে জাকির মদন থানায় শুক্রবার রাতে এ্কটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
আলী আকবরের ছেলে জাকির জানান, তোতা মিয়ার দলবলসহ আমাদের বাড়িতে এসে দিন দুপুরে হামলা চালায় ও বসতঘর ভাংচুর করে নগদ ৬ লক্ষ টাকা ও স্বর্ণ অলংকার লুট করে নিয়ে যায়, এবং আমার বাবাকে বল্লম দিয়ে আঘাত করে ও মাকে হাত ভেঙ্গে দিয়েছে। এ ঘটনার সাথে যারা জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি করছি।
তোতা মিয়ার ছেলে আঙ্গুর জানায়, বিগত ২০০৭ সালে কেয়ার ও স্বাবলম্বী যৌথ উদ্যোগে আলী আকবরের নিকট থেকে জমি ক্রয় করে আমাদের গ্রামে সমিতির কার্যালয় ও রির্সোট নির্মান করে। এনজিওর কার্যক্রম শেষ হলে আলী আকবর এনজির ঘরটি দখল করে বসবাস করতে থাকে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার বারবার তাগিদ দেয়ার পরও ঘর না ছাড়ায় সমিতির সকল সদস্য মিলে ঘর দখলে নিয়ে যায়। আমরা এর সাথে জড়িত নয়।
মদন থানার ওসি হাসনাত জামান জানান, একটি ঘর ভাংচুর এবং মারামারির খবর পেয়েছি। এ ব্যাপারে আলী আকবরের ছেলে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।






























