ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে মেয়াদোত্তীর্ণ সার বিক্রির অভিযোগ, প্রতিবাদ করায় প্রাণনাশের হুমকি

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় মেসার্স আবুল বাশার নামে একটি সার ডিলারের বিরুদ্ধে পুরাতন ও মেয়াদোত্তীর্ণ সার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় কৃষকদের মাঝে উদ্বেগ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার আঠারবাড়ি ইউনিয়নে দক্ষিণ বনগাঁও সাকাওয়াত হোসেন এর জমিতে চাষাবাদের জন্য এক কৃষক মেসার্স আবুল বাশার ডিলারের কাছ থেকে সার ক্রয় করেন। পরে সেই সার জমিতে প্রয়োগ করার পর ফসলের ক্ষতি হওয়ার অভিযোগ করেন ওই কৃষক। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা শুরু হলে স্থানীয় যুবক সম্রাট ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে সার ডিলারের দোকানে যান।

সম্রাটের দাবি, দোকানে গিয়ে তিনি সারের বস্তা পরীক্ষা করে দেখেন বস্তার গায়ে ২০১৬ সালের উৎপাদনের তারিখ উল্লেখ রয়েছে। এত পুরাতন সার বিক্রি করা নিয়ে তিনি প্রতিবাদ জানালে ডিলার আবুল বাশার ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগ ওঠে।

কৃষক সাকাওয়াত হোসেন বলেন, আমি এক বস্তা সার কিনেছি মেসার্স আবুল বাশার এর কাছ থেকে এক বস্তা সার নিয়ে আমার ৪০ শতাংশ জমিতে সার দিলে পরের দিন দেখি, আমার জমির অবস্থা খারাপ, আমি মাঠ কর্মীর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন সার ভালো না জমি পানি বের করেন নতুন পানি দেন, তারাতাড়ি পানি সেচ দিয়ে আমি সারের দোকানে যোগাযোগ করি।

এ ঘটনার পর বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মাঝে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। কৃষকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী নিম্নমানের বা পুরাতন সার বিক্রি করে কৃষকদের ক্ষতির মুখে ফেলছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ডিলার আবুল বাশারের সাথে ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, সরকার থেকে প্রতি গাড়িতে ৫ বস্তা করে এমন সার দিয়েছে আমি ১০ গাড়ি সার এনেছি মোট ৫০ বস্তা সার আমাকে দিয়েছে আর আমি কৃষক কে দিয়েছি ভুল হলে সরকারের হয়েছে।

এবিষয়ে কৃষি অফিসার নিপা রাণী চৌহান বলেন, সারের কোনো মেয়াদ এর তারিখ থাকে না আর সার নষ্ট হবার সুযোগ কম থাকে, কৃষকের জমি খারাপ হবার বিষয়টি নিয়ে আমার কাছে কোনো অভিযোগ আসেনি, আমি এই বিষয়ে কিছু জানি না, অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নিতে পারব।

এদিকে স্থানীয় কৃষক ও সচেতন মহল বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।