নওগাঁর মান্দায় অনিয়ম-দুর্নীতি ঢাকতে প্রকল্পের টাকা স্থানীয় সাংবাদিকদের ‘ম্যানেজ

নওগাঁর মান্দা উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির নানা অভিযোগের মাঝেই নতুন এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। ইউনিয়ন পরিষদের প্রকল্পের অর্থ থেকে দুটি সাংবাদিক সংগঠনকে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে চেয়ারম্যান ফোরামের বিরুদ্ধে।

সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রকল্পের অর্থ নাকি উত্তোলনের পর উপজেলার দুটি সাংবাদিক সংগঠনকে ‘ম্যানেজ’ করার উদ্দেশ্যে এই অর্থ তোলা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ইউপি চেয়ারম্যান জানান, ১৪টি ইউনিয়নের প্রত্যেকটি থেকে ১০ হাজার টাকা করে মোট ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা সংগ্রহ করেন উপজেলা চেয়ারম্যান ফোরামের সভাপতি আবদুল মতিন ও সাধারণ সম্পাদক এস এম মোখলেসুর রহমান কামরুল।

চেয়ারম্যান ফোরামের পক্ষ থেকে ইতিপূর্বে এই অর্থ দুই সাংবাদিক সংগঠনের সভাপতির হাতে তুলে দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করা হয়েছে। তবে অভিযোগ উঠেছে যে, উপজেলার আরোও সাংবাদিকরা এই টাকার বিষয়ে কিছুই জানেন না। উপজেলার সাংবাদিকদের প্রশ্ন: যদি টাকা দেওয়া হয়েই থাকে, তবে সেই টাকা সাধারণ সংবাদকর্মীদের কল্যাণে ব্যয় না হয়ে কার পকেটে গেল?

এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় সংবাদকর্মী ও সচেতন মহলে তীব্র মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই একে গণমাধ্যমের নৈতিকতার অবক্ষয় হিসেবে দেখছেন। এই বিষয়ে মান্দা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মো.নজরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন এবং অবগত না। তবে টাকার সুনির্দিষ্ট বণ্টন নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে।

এব্যাপারে চেয়ারম্যান ফোরামের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোখলেছুর রহমান বলেন বিষয়টি মিসগাইট হয়েছে। অন্যদিকে, মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আখতার জাহান সাথী জানান, এ ধরনের কোনো অর্থ লেনদেনের বিষয়ে তিনি অবগত নন।

উল্লেখ্য সরকারি প্রকল্পের টাকা এ খাতে ব্যয় করার কোনো বিধান আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।