সাতক্ষীরার শ্যামনগরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের প্রতিবাদ করায় হামলা, দু’জন আটক

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে ভাঙনকবলিত এলাকা থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের প্রতিবাদ করায় স্থানীয় গ্রামবাসীদের উপর হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ৮ জুন (সোমবার) রাত দেড়টার দিকে উপজেলার ঘোলা ত্রিমোহণীর জাহাঙ্গীরের বালুর আড়ৎ এলাকায় ঘটনাটি ঘটে।
এসময় আব্দুল হালিম ও আব্দুস সবুরসহ ১০/১২ জন গ্রামবাসী আহত হয় বলে দাবি করেছে স্থানীয়রা। জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা আব্দুর রহমান বাবু ও উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব আনোয়ারুল ইসলাম আঙ্গুরের নেৃতত্বে বালু সিন্ডিকেটের লোকজন ঐ হামলা চালায় বলে অভিযোগ তাদের।
এসময় উত্তেজিত গ্রামবাসী বালু উত্তোলনে জড়িত মশরকাটি গ্রামের হাফিজুল ইসলাম, মতিয়ার রহমান, জালাল গাজ কে আটক করে।
আহত গ্রামবাসী আব্দুল হালিমের ভাষ্য দুর্যোগপ্রবণ ও ভাঙন কবলিত এলাকা হওয়ার কারনে সরকারিভাবে নুতন বছরের জন্য খোলপেটুয়া নদীর কোন অংশকে বালুমহাল ঘোষনা করা হয়নি। তবে আগের বছরের বালুমহাল ইজারা গ্রহীতা যুবদল নেতা আনোয়ারুল ইসলাম ও স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা আব্দুর রহমান বাবুর নেতৃত্বে প্রতি রাতে ১০/১২টি কার্গো, বোট ও বাল্কহেড দিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।
এলাকার নিরাপত্তা ও জীব-প্রাণ-বৈচিত্রের কথা বিবেচনায় নিয়ে বার বার তাদের বালু উত্তোলনে নিষেধ করা হলেও তারা ন্যুনতম গুরুত্ব দেয় না। একপর্যায়ে সোমবার গভীর রাতে একইভাবে খোলপেটুয়া নদীতে ড্রেজার স্থাপন করে পাশের বালুর আড়তে (জাহাঙ্গীর) বালু দেয়ার সময় জনতা আব্দুল আলিমের মালিকানাধীন একটি বোট আটক করে।
খবর পেয়ে আঙ্গুর ও আব্দুর রহমানের নেতৃত্বে ১২/১৪টি মটর সাইকেলযোগে ২০/২৫ জন লাঠিমোটা নিয়ে এসে তাদের উপর হামলা করে।
একই এলাকার ইউপি সদস্য আব্দুস সবুর জানান এলাকাটি প্রতিবছর নদী ভাঙনের মুখে পড়ছে। বারবার নিষেধ করা সত্ত্বেও তারা অবৈধভাবে বালু উত্তোলণন বন্ধ করছে না। রাতে এলাকাবাসী ঘুমিয়ে থাকার সুযোগে তারা বালু উত্তোলন করায় এলাকাবাসী ভাঙন আতংকে রয়েছে।
বার বার অভিযোগ জানিয়েও কোন প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না। বালু উত্তোলনে বাধা দেয়ার কারনে গ্রামবাসীর উপর হালমায় জড়িত তিনজনকে আটক করা হয়েছে। আটক বোটসহ হামলায় জড়িত তিন শ্রমিককে প্রশাসনের হাতে তুলে দেয়া হবে।
উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভুমি) রাশেদ হোসাইন জানান অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে জড়িত কয়েকজনকে আটকের খবর পেয়ে ইউনিয়ন সহকারী ভুমি কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। দ্রুতই পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।






























