ব্ল্যাকমেইল করে কিশোরীকে একাধিকবার ধর্ষণ, অভিযুক্ত আটক করে পুলিশে দিল গ্রামবাসী

সাতক্ষীরার দেবহাটায় মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ ও ব্ল্যাকমেইল করে এক কিশোরীকে (১৪) একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগে মোস্তাফিজুর রহমান (৩৪) নামে এক মুদি দোকানিকে আটক করেছে পুলিশ।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কিশোরীর মায়ের দায়ের করা মামলায় গতকাল শনিবার বিকেলে আসামিকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
আটক মোস্তাফিজ দেবহাটা উপজেলার চরশ্রীপুর গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে।
মামলার এজাহারের বরাতে দেবহাটা থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি আব্দুল আলিম জানান, ভুক্তভোগী কিশোরী স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। গত ৩ জুলাই শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সে বাড়ির পাশে চরশ্রীপুর গ্রামে মোস্তাফিজের মুদি ও চায়ের দোকানে খাবার কিনতে যায়। এ সময় আশপাশে কেউ না থাকার সুযোগে অভিযুক্ত মোস্তাফিজ কিশোরীকে দোকানের ভেতর ডেকে নিয়ে অনৈতিক প্রস্তাব দেয়। কিশোরী রাজি না হলে তাকে ভয়ভীতি দেখানো হয়। একপর্যায়ে মোস্তাফিজের পাশবিকতায় কিশোরীর চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ছুটে এসে কিশোরীকে উদ্ধার করেন এবং অভিযুক্তকে দোকানের ভেতর আটকে রেখে পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে দেবহাটা থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আসামিকে আটক করে।
বাদিনী (কিশোরীর মা) জানান, এর আগেও অভিযুক্ত মোস্তাফিজ তার মেয়েকে ফুসলিয়ে ও বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন সময়ে একাধিকবার ধর্ষণ করেছে। বিষয়টি কাউকে না বলার জন্য সে কিশোরীকে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছিল। এমনকি ধর্ষণের ঘটনার ভিডিও মোবাইলে ধারণ করে তা দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কিশোরীকে ব্ল্যাকমেইল করা হচ্ছিল। যা মোস্তাফিজের দেখানো ভয়ভীতির কারণে সে প্রকাশ করতে পারেনি।
দেবহাটা থানার অফিসার ইনচার্জ -ওসি আব্দুল আলিম জানান, এ ঘটনায় ৩ জুলাই দেবহাটা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আসামিকে আটক করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া ভুক্তভোগী কিশোরীকে উদ্ধার করে আদালতে ২২ ধারায় জবানবন্দী গ্রহণ এবং ডাক্তারি পরীক্ষার (মেডিকেল টেস্ট) জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে পরবর্তী আইনি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।






























