খাগড়াছড়ি আবারও ইউপিডিএফ ও পিসিজেএসএস কর্তৃক গ্রামবাসীকে অপহরণ ও মারধরের অভিযোগ

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায় পানছড়ি উপজেলাতে আবারও ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট(ইউপিডিএফ) ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি(পিসিজেএসএস) মাঠ পর্যায় কর্মী কর্তৃক এক নিরীহ গ্রামবাসীকে অপহরণ ও প্রতিপক্ষের মারধরের পাল্টা-পাল্টি অভিযোগ করেছে।

ইউপিডিএফ’র কর্তৃক নিরীহ এলাকাবাসীকে অপহরন, পক্ষান্তরে পিসিজেএসএস সন্তু গ্রæুপ কর্তৃক এক দিনমজুরকে মারধরের অভিযোগ করেছে।

জেলার পানছড়ি উপজেলার চেঙ্গী ইউনিয়নের ৪নং ওয়াডের জিতেন্দ্র পাড়া (তারাবন) এলাকার নিজ বাড়ি থেকে গতকাল ২৯ জুন রাত আনুমানিক ৯টার দিকে পার্বত্য চুক্তি বিরোধী ইউপিডিএফ কর্মী বাহিনীর সুমেনের নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র কর্মী কর্তৃক এক নিরীহ ও সাধারণ গ্রামবাসীকে অপহরণ করে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ভুক্তভোগীর পরিচয়: জিবন চাকমা ওরফে জুড়ানি বাপ(৩৪), পিতা: বিন্দু কুমার চাকমা। তিনি পেশায় একজন ক্ষুদ্র মৌসুমি ফল ব্যবসায়ী।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গতকাল ২৯শে জুন রাত ৯টার দিকে জিতেন্দ্র পাড়ার বাসিন্দা জিবন চাকমা ওরফে জুড়ানি বাপ নিজ বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। এ সময় সশস্ত্র সুমেনের নেতৃত্বে ইউপিডিএফের একদল সশস্ত্র কর্মীরা আকস্মিকভাবে তার বাড়িতে হানা দেয়। এরপর জিবন চাকমাকে নিজ ঘর থেকে ধরে নিয়ে যায়।

উক্ত ঘটনায় অপহৃতের পরিবার ও প্রতিবেশীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে বলেও জানা গেছে।

এলাকাবাসীরা জানান, জিবন চাকমা একজন নিরীহ ও সাধারণ গ্রামবাসী। কোনো রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক কর্মকান্ডের সাথে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে একজন সাধারণ মানুষকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় পুরো তারাবন এলাকায় চরম ক্ষোভ ও অস্থিরতা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা অপহৃত জিবন চাকমাকে দ্রুত অক্ষত অবস্থায় ছেড়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে।

সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, অপহৃত জিবন চাকমার কোনো খোঁজ মেলেনি এবং অপহরণের সুনির্দিষ্ট কারণও এখনো জানা যায়নি।

এদিকে পিসিজেএসএস সন্তু গ্রুপ কর্তৃক এক দিনমজুরকে মারধরের অভিযোগ করেছে। জেলার পানছড়িতে লোগাং ইউনিয়নের রামতনু পাড়ায় পিসিজেএসএস সন্তু গ্রæুপের সশস্ত্র কর্মীরা এক দিনমজুরকে মারধর করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল শনিবার (২৭ জুন ২০২৬) বেলা আড়াইটার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়।

ভুক্তভোগীর নাম রতন ত্রিপুরা (৩৫), পিতা: মৃত নবীন কুমার ত্রিপুরা, গ্রাম: রামতনু পাড়া।

স্থানীয়রা জানান, গতকাল শনিবার বেলা আড়াইটার সময় ভুক্তভোগী রতন ত্রিপুরা একবেলা কাজ শেষে ভাত খাওয়ার পর নিজ বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। এসময় সন্তু গ্রæুপের কয়েকজন অস্ত্রধারী এসে তাকে পাশের বাড়িতে ডেকে নিয়ে বেদম মারধর করে। কী কারণে তাকে মারধর করা হয়েছে তার বিস্তারিত জানা যায়নি।

এ ঘটনায় স্থানীয় এলাকাবাসী ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, জনগণের জন্য কাজ করার কথা বলে একজন সাধারণ মানুষকে মারধর করা চরম অন্যায়। সাধারণ মানুষের ওপর এমন অন্যায় অচিরেই বন্ধ হওয়া উচিত।

উল্লেখ্য, গত এক সপ্তাহ যাবৎ পিসিজেএসএস সন্তু গ্রপের ৫০-৫৫জনের একটি সশস্ত্র দল ওই এলাকায় অবস্থান করছে। তারা প্রকাশ্যে সশস্ত্র অবস্থায় অবস্থান করলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।

অবস্থান বেধে এলাকার একাধিক ব্যক্তি সন্দেহ প্রকাশ করে বলেছেন, “আমরা সবসময় দেখি যে, সেনাবাহিনী ‘অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী’ খোঁজার নামে অভিযান পরিচালনা করে। কিন্তু ইউপিডিএফ ও পিসিজেএসএসে’র সশস্ত্র লোকজন প্রকাশ্যে অবস্থান ও সশস্ত্র মহড়া দিলেও তাদের বিরুদ্ধে কোন অভিযান পরিচালনা করে না। এতে সেনাবাহিনীর সাথে তাদের বোঝাপড়া রয়েছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।’