রাঙ্গামাটি জেলার ১২৫টি স্থানে পাহাড়ধস, পানিবন্দি ৩৭০টি পরিবার

টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে বাঘাইছড়ি ও বরকল উপজেলার পুরো নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলায় টানা ভারী বর্ষণের পরিমাণ কিছুটা কমে আসলেও জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার বন্যা পরিস্থিতি এখনো অপরিবর্তিত রয়েছে। পানিবন্দি পরিবার ৩৭০টি। তাদের আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে আসা হচ্ছে।
রাঙ্গামাটি আঞ্চলিক আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় রাঙ্গামাটিতে ৯২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বৃষ্টিপাত কমলেও পাহাড় ধসের ঝুঁকি এবং বন্যা পরিস্থিতির কারণে এখনো জেলার একটি বিশাল জনগোষ্ঠী আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন।
জেলা প্রশাসনের সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, জেলার সাতটি উপজেলায় মোট ১২৫টি স্থানে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। কাপ্তাই ৩২টি, বাঘাইছড়ি ৩টি, কাউখালী ৩০টি রাঙ্গামাটি সদর-১৩টি, নানিয়ারচর-৬টি, বিলাইছড়ি-৩৭টি, লংগদু-৪টি। রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলায় অতিবর্ষণের ফলে সৃষ্ট দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে জেলার ১২২টি আশ্রয়কেন্দ্রের মধ্যে ৪০ টি আশ্রয়কেন্দ্রে এখন পর্যন্ত ৪ হাজার ৩৯২ জন আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। পানি বন্দি পরিবার ৩৭০টি। তাদের আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে আসা হচ্ছে।
রাঙ্গামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী বলেন, জেলার বন্যা ও পাহাড় ধস পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ৪ হাজার ৩৯২ জন মানুষকে ইতিমধ্যে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে আনা হয়েছে। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা ও উপজেলা প্রশাসন সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানান জেলা প্রশাসক।
বর্তমানে আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রিত সকল লোকজনকে প্রতিদিন ৩ বেলা খাবারসহ প্রয়োজনীয় স্যানিটেশন ও সুপেয় পানি প্রদান করা হচ্ছে। জেলায় সরকারি ব্যবস্থাপনায় আশ্রয়কেন্দ্র গুলোতে তদারকি জোরদার করা হয়েছে। একই সাথে বন্যা ও দুর্যোগ কবলিত এলাকার পানিবন্দি সাধারণ মানুষকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ সরবরাহ করা হচ্ছে।
বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমানে মারজান জানান, ভারী বর্ষণ কমায় নতুন করে পানি না বাড়লেও বাঘাইছড়ির নিচু এলাকাগুলো এখনো প্লাবিত রয়েছে। পানিবন্দি পরিবারগুলোকে দ্রুততার সাথে উদ্ধার করে আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে আসা হয়েছে। এছাড়া সাজেকে আটকে পড়া পর্যটকদের আজ সকালে সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় সম্পূর্ণ নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।






























