যশোরের ঝিকরগাছায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের শ্লীলতাহানির অভিযোগ

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার জয়রামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুর সবুরের বিরুদ্ধে একাধিক ছাত্রীকে শ্লীলতাহানি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের গুরুতর লিখিত অভিযোগ উঠেছে। গত ২ জুলাই উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের পক্ষ থেকে এই আবেদন দাখিল করা হয়।

পৌর সদরের কাটাখাল গ্রামের আব্দুর গফুরের ছেলে আব্দুর সবুর ২০১৮ সালের মে মাসে এই বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। দায়েরকৃত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত শিক্ষক বিভিন্ন সময়ে বিদ্যালয়ের চিলেকোঠা ও শ্রেণিকক্ষে সুযোগ বুঝে তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির একাধিক ছাত্রীকে শ্লীলতাহানি করতেন এবং বিষয়টি কাউকে না জানাতে প্রাণনাশের হুমকি দিতেন।

লোকলজ্জা ও চরম ভয়ের কারণে শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন বিষয়টি চেপে রাখলেও, সম্প্রতি পরিবারের কাছে তা প্রকাশ করার পর অভিভাবকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অভিযোগ ওঠার পর গত ২৮ জুন থেকে ওই শিক্ষক বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত রয়েছেন।

স্থানীয়দের একাংশের দাবি, অতীতে কাটাখাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত থাকাকালেও তিনি একই ধরনের অভিযোগের মুখে পড়েছিলেন এবং সে সময় তাকে তড়িঘড়ি করে বদলি করা হয়েছিল।

তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ দৃঢ়তার সঙ্গে অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুর সবুর। তার দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের কেবল “স্নেহবশত আদর” করেছিলেন এবং বিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষকরা ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরে তার বিরুদ্ধে এই মিথ্যা অপবাদ ছড়াচ্ছেন।

পূর্ববর্তী কর্মস্থল কাটাখাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ঘটনাটিকেও তিনি সম্পূর্ণ “রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের” অংশ বলে উল্লেখ করেন। এদিকে, ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর থেকে এলাকার সচেতন মহল ও সাধারণ অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।

বিদ্যালয় যেখানে শিশুদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়স্থল হওয়ার কথা, সেখানে এমন অভিযোগ আসায় অনেকেই তাদের সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর দুশ্চিন্তা প্রকাশ করেছেন এবং ঘটনার একটি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও প্রভাবমুক্ত তদন্ত দাবি করেছেন।

এ বিষয়ে ঝিকরগাছা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ ওয়ালীয়ার রহমান লিখিত অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গত ২ জুলাই অভিযোগটি পাওয়ার পর ৭ জুলাই তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর যদি অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়, তবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক কঠোর বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে সুপারিশ করা হবে।

তদন্তের বর্তমান পরিস্থিতির ওপর আলোকপাত করে তিনি আরও জানান, গত সোমবার অভিযোগকারী অভিভাবকরা তাদের অভিযোগ তুলে নেওয়ার জন্য একটি আবেদন নিয়ে এসেছিলেন, তবে পদ্ধতিগত ও আইনি কারণে আবেদনটি যথাযথ না হওয়ায় তা গ্রহণ না করে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে স্থানীয় সচেতন মহলের নজর এখন প্রশাসনের তদন্তের দিকে, যেখান থেকে প্রকৃত সত্য উন্মোচিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।