ময়মনসিংহের গৌরীপুরে সরকারি প্রাথমিকে ইন্টারনেট বিল উত্তোলনে অর্থ দাবির অভিযোগ

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ইন্টারনেট সেবার বিল উত্তোলনের নামে শিক্ষকদের কাছ থেকে টাকা দাবি করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের চুক্তিবদ্ধ প্রকল্পের মাধ্যমে বিদ্যালয়গুলোতে রাউটার বা প্রয়োজনীয় ডিভাইস স্থাপন করা হলেও অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানেই সেবা পাওয়া যায়নি। সেবা না মিললেও এক বছরের ইন্টারনেট বিল চলে এসেছে, আর এই বিল শিক্ষকদের পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে একটি চক্র বিদ্যালয় প্রতি এক হাজার টাকা করে আদায় করছে বলে শিক্ষকরা অভিযোগ করেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক জানান, বিল পাস করানো এবং ট্রেজারি অফিসে প্রদানের অজুহাতে পৌর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাদের কাছে টাকা দাবি করেছেন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ওই প্রধান শিক্ষক মাজহারুল আনোয়ার ফেরদৌস জানান, তিনি কারও কাছে টাকা চাননি এবং বিষয়টি নিয়ে কোনো বৈঠকও করেননি; এটি পুরোপুরি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (টিইও) মহোদয়ের কার্যালয়ে প্রধান শিক্ষকদের আলোচনার বিষয় ছিল। অন্যদিকে, উপজেলা হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা আনোয়ার রহমান জানান, গত জুন মাসেই ইন্টারনেট বিল ছাড় করা হয়েছে এবং তার অফিসের নাম ভাঙিয়ে কেউ অর্থ আদায় করছে কি না তা তার জানা নেই।
তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে, উপজেলায় মোট ১৭৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১৭৪টি বিদ্যালয়ের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির ইন্টারনেট সেবা চুক্তি রয়েছে। তন্মধ্যে ৭৬টি বিদ্যালয়ে এডিএন টেলিকম ও ৯৮টি প্রতিষ্ঠানকে গ্রামীণ ফোন কোম্পানীর সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছিলো। চুক্তি অনুযায়ী প্রতিটি বিদ্যালয়ের বিপরীতে প্রতি মাসে ১ হাজার টাকা করে বিল পরিশোধ করতে হবে। গত বছরের জুলাই মাস থেকে চলতি বছরের জুন মাস পর্যন্ত এক বছরের বিল পাঠিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। সেই বিল উত্তোলন করে স্থানীয় উপজেলা শিক্ষা অফিসের ব্যাংক হিসাব নম্বরে গচ্ছিত রাখা হয়েছে।
একাধিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ অভিযোগ করে বলেন, ইন্টারনেট সংযোগের ক্ষেত্রে কেবল ডিভাইস প্রদান করেছেন কিন্তু কোন সেবা তারা পাননি। একদিনও ব্যবহার করা যায়নি।
গাভীশিমুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন চঞ্চল জানান, গ্রামীণ ফোনের ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়া হয়েছিলো। রাউটার নিম্নমানের হলেও শুরুর দিকে ইন্টারনেট সেবা পেলেও ২০২৫ সালের শেষ দিক থেকে পুরোপুরি সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
এব্যাপারে এডিএন টেলিকম কোম্পানীর দায়িত্বরত কর্মকর্তা সোহাগ (ভালো নাম জানা যায়নি) জানান, গত ২০২৫ সালের শুরুর দিকে সংযোগ দেওয়া হয়েছে। কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি প্রত্যেক মাসে বিল প্রদান করবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোন বিল আমরা পাইনি। তাই, এই বছরের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। বিল পরিশোধ করলে পুণরায় সংযোগ প্রদান করা হবে।
অধিকতর অনুসন্ধানে জানা গেছে, টেলিওয়ের কমিউনিকেশন কোম্পানী স্থানীয়ভাবে বিজয় আইটিকে ইন্টারনেট সেবা প্রদানের জন্য পার্টনার হিসেবে দায়িত্ব দেন।
এ বিষয়ে বিজয় আইটির স্থানীয় ম্যানেজার মো: আব্দুল্লাহ বলেন, আমরা প্রথম পর্যায়ে ২০২৪ সালে পৌরসভার ২০টি বিদ্যালয়ে ইন্টারনেট সেবা চালু করি ও ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে দ্বিতীয় পর্যায়ে ১৫৪টি বিদ্যালয়ে ইন্টারনেট সংযোগ প্রদান করা হয়। ইন্টারনেট সংযোগের পর থেকে আমরা কোন বিল পাইনি। বিল না পাওয়ায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।
সার্বিক বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাঈদা রুবায়াত জানান, পর্যাপ্ত সেবা না পাওয়ার অভিযোগ থাকায় কোম্পানিগুলোকে বিল প্রদান স্থগিত রাখা হয়েছিল। তবে শিক্ষকরা যেহেতু ব্যক্তিগতভাবে নেট ব্যবহার করে প্রতিদিনের ডিজিটাল হাজিরা সম্পন্ন করছেন, তাই প্রধান শিক্ষকদের প্রত্যয়নের ভিত্তিতেই তাদের ব্যাংক হিসাবে অর্থ ছাড়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। বিল পাইয়ে দেওয়ার নামে কোনো চক্র ঘুষ দাবি করছে কি না—এমন তথ্য জানা নেই বলে তিনি জানান।






























