খুলনায় পুলিশের ৬০তম টিআরসি ব্যাচের সমাপনী কুচকাওয়াজ

খুলনা পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারে পুলিশের ৬০তম ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) খুলনা পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারে অনুষ্ঠিত হলো বাংলাদেশের ৬০তম ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ, যেখানে মোট ২১৪ জন নবীন প্রশিক্ষণার্থী তাদের চার মাসব্যাপী মৌলিক পুলিশ প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন করে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ পুলিশের পেশাগত অঙ্গনে পদার্পণ করলেন।
সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এ কে এম আওলাদ হোসেন, বাংলাদেশ পুলিশের অ্যাডিশনাল আইজি (অ্যাডমিন), যিনি প্রশিক্ষণার্থীদের মনোজ্ঞ কুচকাওয়াজ পরিদর্শন এবং সালাম গ্রহণ করেন।
এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন খুলনা পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারের কমান্ড্যান্ট মোঃ মাহবুবুর রহমান ভুঁইয়া, জাহানাবাদ সেনানিবাসের কমান্ড্যান্ট ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোতাহার হোসেন, খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি মোঃ রেজাউল হক, খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোঃ জাহিদুল হাসান, সামরিক ও বেসামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ, বীর মুক্তিযোদ্ধারা এবং প্রশিক্ষণার্থীদের অভিভাবকবৃন্দ।
প্রধান অতিথি এ কে এম আওলাদ হোসেন কুচকাওয়াজ পরিদর্শনের পর কৃতি প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে ট্রফি প্রদান করেন। এ সময় বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী শিক্ষার্থীরা সম্মানিত হন- চৌকস বিষয়ে শ্রেষ্ঠ ট্রেইনি: মোঃ মাহফুজ আলম, একাডেমিক বিষয়ে শ্রেষ্ঠ ট্রেইনি: মোঃ হৃদয় আহমেদ, মাঠ বিষয়ে শ্রেষ্ঠ ট্রেইনি: আল মাসুম মুসফিক শিহাব ও মাসকেট্রিতে শ্রেষ্ঠ ট্রেইনি: মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান মিরাজ।
প্রধান অতিথি প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালন’ এই মহান ব্রতকে ধারণ করে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং আইনি সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়ে জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করা প্রত্যেক নবীন পুলিশ সদস্যের দায়িত্ব। সততা, শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে আপনারা বাংলাদেশ পুলিশের সেবায় নতুন উদ্দীপনা যোগ করবেন।
এ কে এম আওলাদ হোসেন আরও বলেন, এই বর্ণাঢ্য সমাপনী কুচকাওয়াজের মাধ্যমে ৬০তম ব্যাচের ২১৪ জন প্রশিক্ষণার্থী দেশের নিরাপত্তা, জননিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার অঙ্গীকার নিয়ে পুলিশের পেশাগত অঙ্গনে পদার্পণ করছেন। তাদের দেশপ্রেম, ন্যায়পরায়ণতা, সততা ও দক্ষতা বাংলাদেশের পুলিশের সার্বিক শক্তি ও সেবার মান বৃদ্ধি করবে।
প্রশিক্ষণার্থীদের অভিভাবকরা জানান, সমাপনী কুচকাওয়াজটি প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য গৌরবময় একটি মুহূর্ত, যা তাদের ভবিষ্যৎ পেশাজীবনে অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।
৬০তম ব্যাচের প্রশিক্ষণার্থীরা চার মাসব্যাপী মৌলিক প্রশিক্ষণ শেষে কুচকাওয়াজে অংশগ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণ চলাকালীন তারা ফিজিক্যাল ফিটনেস, অস্ত্র প্রশিক্ষণ, পুলিশের আইন ও আচরণবিধি, অপরাধ তদন্ত এবং জনসেবামূলক দায়িত্ব পালন সংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রমে দক্ষতা অর্জন করেন। সমাপনী কুচকাওয়াজে প্রশিক্ষণার্থীরা সুশৃঙ্খল প্যারেড, মানসিক ও শারীরিক সক্ষমতার প্রদর্শনী, মাসকেট্রি ও কৌশলগত প্রদর্শনী প্রদর্শন করেন।
এ সময় কমান্ড্যান্ট মোঃ মাহবুবুর রহমান ভুঁইয়া বলেন, প্রতিটি ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল শুধু পুলিশ সদস্য নয়, তারা সমাজের রক্ষক ও জননিরাপত্তার প্রতীক। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা জনগণের সেবায় ব্যবহার করা হবে।
প্রধান অতিথি বক্তব্যে প্রশিক্ষণার্থীদের সততা, দায়িত্বশীলতা এবং শৃঙ্খলাবদ্ধ আচরণের ওপর বিশেষ জোর দেন। তিনি বলেন, প্রশিক্ষণ শেষে আপনাদের দায়িত্ব শুধু আইন প্রয়োগ নয়, সমাজে ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা, মানুষের আস্থা অর্জন এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করাও।
সমাপনী কুচকাওয়াজের মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থীরা বাংলাদেশ পুলিশের ঐতিহ্য, শৃঙ্খলা এবং জনসেবার মূল্যবোধে নিজেদের প্রস্তুত করে নতুন উদ্যমে জনগণের সেবা করতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধান অতিথি।






























