মালয়েশিয়াগামী ট্রলার ডুবি
দেলোয়ারকে মানব পাচারকারী আখ্যায়িত করে অপপ্রচার—নিহত হাবিবুল্লাহর মায়ের প্রতিবাদ

মালয়েশিয়াগামী ট্রলার ডুবিতে কক্সবাজারের রামু উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ কচ্ছপিয়া গ্রামের চার যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় কলেজ শিক্ষার্থী দেলোয়ারকে মানব পাচারকারী হিসেবে আখ্যায়িত করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন কলেজ শিক্ষার্থী দেলোয়ার এবং নিহত হাবিবুল্লাহর মা মিনাহারা বেগম।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, ট্রলার ডুবিতে চার যুবকের মৃত্যুর পর একটি মহল বিভিন্ন ফেইসবুক আইডি থেকে নিরীহ লোকজনকে জড়িয়ে দালাল ও মানব পাচারকারী আখ্যা দিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে। এতে এলাকায় উত্তেজনা ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
কচ্ছপিয়া গ্রামের শতাধিক গ্রামবাসী জানান, দেলোয়ার একজন কলেজ পড়ুয়া ছাত্র। সম্প্রতি স্কুলের গণ্ডি পেরিয়ে কলেজে ভর্তি হয়েছেন তিনি। বাবা হারানো এ শিক্ষার্থীর স্বপ্ন ছিল লেখাপড়া করে প্রতিষ্ঠিত হওয়া। কিন্তু একটি কুচক্রী মহল তাকে মানব পাচারকারী চক্রের সদস্য হিসেবে অপপ্রচার চালিয়ে তার সামাজিক সম্মান ক্ষুণ্ন করছে।
এ বিষয়ে কলেজ শিক্ষার্থী দেলোয়ার বলেন, “আমি একজন সাধারণ শিক্ষার্থী। ট্রলার ডুবির ঘটনায় আমার কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই। একটি স্বার্থান্বেষী মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে। এতে আমি ও আমার পরিবার সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হচ্ছি। প্রশাসনের কাছে বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানাচ্ছি।”
অন্যদিকে মালয়েশিয়াগামী ট্রলার ডুবিতে নিহত চার যুবকের একজন হাবিবুল্লাহর মা মিনাহারা বেগম এক ভিডিও বার্তায় বলেন, “আমার ছেলে হাবিবুল্লাহসহ নিহত চারজন স্বেচ্ছায় মালয়েশিয়া যাওয়ার উদ্দেশ্যে ট্রলারে উঠেছিল। তাদের কাউকে এলাকার কোনো ব্যক্তি প্ররোচনা দেয়নি। দেলোয়ার বা অন্য কারও সম্পৃক্ততার বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা। নিরীহ লোকজনকে হয়রানি করা ঠিক নয়।”
তিনি আরও বলেন, “আমার ছেলের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে কাউকে দোষারোপ করে অপপ্রচার চালানো বন্ধ করা হোক। প্রশাসন ও সংবাদকর্মীদের কাছে অনুরোধ—যাচাই ছাড়া কারও নাম প্রকাশ না করার জন্য।”
এ ঘটনায় এলাকাবাসীও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার বন্ধ করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।























