নেত্রকোনার মদনে এক যুবতিকে শ্বাসরোধে হত্যা

নেত্রকোনার মদনে মনা আক্তার(১৬) নামে এক যুবতিকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সোমবার বিকালে উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের ছত্রকোনা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ওই রাতে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পুলিশ নেত্রকোনা মর্গে প্রেরণ করেছে। নিহত মনা আক্তার ফতেপুর ছত্রকোনার নজরুল ইসলামের মেয়ে।

নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, নিহত মনা আক্তারের বাবা ও ভাই ঢাকায় ব্যবসা করেন। বাড়িতে সে ও তার মা মিনা আক্তার বসবাস করেন। সোমবার মনাকে রেখে মা ফতেপুর হাটশিরা বাজারে যায়। বাজার থেকে এসে বাড়ি নিরব থাকায় মেয়েকে ডাকাডাকি করতে থাকে। এ সময় নাঈম ঘর থেকে বের হয়ে দৌড় শুরু করে।

ঘরের ভেতর ঢুকে তার মেয়েকে বিছানায় শুয়ে থাকা অবস্থায় দেখে ডাকাডাকি করতে থাকেন। কোন সাড়া শব্দ না পাওয়ায় ডাক চিৎকার শুরু করেন। এ সময় আশে পাশের লোকজন ছুটে এসে মনাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পায়। পরে তারা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

পুলিশ তার লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে সোমবার রাতে ময়না তদন্তের জন্য নেত্রকোনা মর্গে প্রেরণ করেছে।

নিহতের মা মিনা আক্তার জানান, নাঈম আমার বোনের মেয়ের জামাই। এই সুবাধে প্রায়ই সে আমাদের বাড়িতে আসা যাওয়া করত। তার চলা ফেরা সন্দেহজনক হওয়ায় আমাদের বাড়িতে আসতে তাকে নিষেধ করি। সে নিষেধ অমান্য করে বিভিন্ন সময় হুমকি দিয়ে আমাদের বাড়িতে আসতে থাকে।

আমার মেয়ের বিয়ে ঠিক করলে সে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে বিয়ে ভেঙে দেয়। এ ব্যাপারে তার বাবা লাঠিয়াল বাবুলকে জানালে সেও ক্ষুব্ধ হয়ে আমাদেরকে নানা রকম হুমকি দেয়। সোমবার মেয়েকে রেখে বাজারে যাই। বাড়িতে আসতেই নাঈম ঘর থেকে দৌড়ে পালিয়ে যায়। ঘরে ঢুকে মেয়ের মৃত দেহ পাই। তার গলায় ও মুখে আঘাতের চিহৃ রয়েছে। নাঈমই আমার মেয়েকে হত্যা করেছে।

ওসি উজ্জ্বল কান্তি সরকার জানান, যুবতি মনার মৃত্যুর খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য নেত্রকোনার মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। তবে বিষয়টি রহস্য জনক। যাচাই বাছাই করা হচ্ছে।