নেত্রকোনার মদন বালই নদীতে বিষ প্রয়োগে মাছ ও হাঁস নিধনের অভিযোগ

নেত্রকোনার মদনে বালই নদীতে অসাধু চক্র বিষ প্রয়োগ করে মাছ ও হাঁস নিধনের অভিযোগ উঠেছে। এতে নদী জলাশয়ের জীববৈচিত্র্য চরম হুমকির মুখে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতের আঁধারে নদীর নির্দিষ্ট জায়গায় কীটনাশক ঢেলে দেওয়া হয়। এক থেকে দুই ঘণ্টার মধ্যে মাছ অসুস্থ্য হয়ে পানির উপর ভেসে ওঠে বা মারা যায়।
পরে জাল ফেলে সংগ্রহ করা হয় এসব মাছ।এ বিষ নদীর পানিতে কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। এতে শুধু মাছ ছাড়াও নদীতে থাকা ,ব্যাঙ, শামুক, কাঁকড়া ও অন্যান্য জলজ প্রাণী মারা যাচ্ছে। এসব বিষাক্ত মাছ খেলে কিডনি ও লিভারের ক্ষতিসহ নানা রোগের ঝুঁকি বাড়ে। বিষাক্ত পানির কারণে ফসল ও পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এ ব্যাপারে বাঘমারা গ্রামের জানু মিয়া, অনল মিয়াসহ আরও অনেকে বলেন, একই গ্রামের আনারুল, সানারুল, সম্রাট, আইনূল, বকুল.এনট্রাসসহ বেশ কয়েকজন অসাধু জেলেরা রাতের আধাঁরে বিষ দিয়ে মাছ ধরতে চাইলে প্রথমে আমরা তাদের বাধাঁ দেই। তারা আমাদের কোন বাধাঁ মানে নাই।
রাতের আধাঁরে বিষ দিয়ে মাছ মেরেই ফেলেছে।
তারা আরও বলেন, এতে নদীতে বিভিন্ন রকমের মাছ ভেসে উঠেছে। নদীতে অনেকে হাসেঁর খামার রয়েছে। ওই হাসঁ নদীতেই খাবার খায়। সকালে গিয়ে দেখি বেশ কয়েকটি হাসঁ মরে ভেসে উঠেছে।
নদীতে প্রায় ১৫/২০ জনের ১০ হাজারের উপরে হাসঁ লালন পালন করে। ওই নদীতে শুধু মাছ না শত শত গরু বাচুর গোসল করানো হয়। এখন বিষ দেওয়ার কয়েক হাজার হাসঁ মৃত্যুর মুখে রয়েছে। আমরা এখন খুবই দুঃচিন্তায় আছি।
মৎস্যজীবি আইনূল জানান, আমরা মূলত নদীতে মাছ ধরতে বিষ দেইনি। মাছ ধরতে অনেক চোর আছে। তারাই মূলত বিষ দিয়েছে।
মদন উপজেলার ভারপ্রাপ্ত মৎস্য কর্মকর্তা আশরাফ উল্লাহ জানান, অসাধু জেলেরা ‘ফাইটার’ নামে একটি ওষুধ দেয়। এতে নদীর এক একরের মধ্যে যত ধরনের মাছ থাকে তা তীরে চলে আসে। বাঘমারার সামনে বালই নদীতে এমন ভাবে মাছ নিধনের কথা শুনেছি। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে যেন ভুক্তভোগীরা অবগত করেন।
বিষ দিয়ে নিধন করা মাছে প্রকৃত স্বাদ থাকে না। এসব মাছ দ্রুত সময়ের মধ্যে পঁচে যায়।
জেলা আঞ্চলিক সমন্বয়কারী বারসিক এর অহিদুর রহমান বলেন, উন্মুক্ত এবং প্রবাহিত জলাশয়ে ওষুধ ব্যবহার করে মাছ শিকার নিষিদ্ধ। কারণ নদীর কোনো স্থানে এ জাতীয় বিষ দিলে ওই জায়গায় অন্তত ১৫ দিন কোনো মাছ আসে না। এ ছাড়া বিষ দেওয়া মাছ খেলে মানুষের শরীরের ক্ষতি হয়। তাই জনসচেতনতা জরুরী।
জনসচেতনতা ছাড়া এদের প্রতিরোধ করা যাবে না।
মদন উপজেলা নির্বাহী অফিসার বেদবতী বিস্ত্রী জানান, আমি এখনি খোঁজ নিয়ে দেখছি।






























