পটুয়াখালীর মহিপুরে চোর সন্দেহে বৃদ্ধকে গাছে বেঁধে পিটিয়ে হত্যা

পটুয়াখালীর মহিপুরের এক বৃদ্ধকে চোর সন্দেহে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। মানসিক ভারসাম্যহীন বৃদ্ধ মোতালেব আকন (৭০) বাড়ি থেকে বের হয়ে সোমবার (১৭ মার্চ) সন্দেহভাজন হিসেবে আমতলী উপজেলার চাউলাপাড়া এলাকায় মবের স্বীকার হন তিনি।
এসময় তাকে শারিরীক নির্যাতন করে গাছের সঙ্গে বেধে রাখা হয়। পরে স্বজনরা তাকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখতে পেয়ে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করেন। তবে অবস্থার অবনতি হলে বৃহস্পতিবার (ভোর ৬টা) উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। তিনি কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর থানার লতাচাপলী ইউপির মিশ্রীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ১৭ মার্চ কাউকে কিছু না জানিয়ে নিজ বাড়ি থেকে বের হয়ে প্রথমে চাকামইয়া এবং পরে তালতলী আত্মীয় বাড়ি যান মোতালেব আকন। এরপর থেকেই তার স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একদিন পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তারা তার অবস্থান সম্পর্কে জানতে পারেন।
পরিবারের অভিযোগ, বরগুনার আমতলী উপজেলার ৪ নম্বর সারিকখালী ইউনিয়নের চাউলাপাড়া এলাকায় রাত ১০ টার দিকে বৃদ্ধ তার স্বজনদের কাছে যাওয়ার পথে চোর সন্দেহে আটক করে। পরে নিরব (২৭), জহির হাং (২৮), আল-আমিন (৩০) সহ অজ্ঞাত আরও ৭-৮ জন তাকে গাছের সাথে বেঁধে নির্মমভাবে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে।
খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে প্রথমে বরিশাল এবং সেখান থেকে ঢাকায় নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তবে ঢাকায় নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়।
এ বিষয়ে তালতলী থানার ওসি আসাদুর রহমান বলেন, ঘটনাটি তাদের নজরে এসেছে। নিহতের বড় ছেলে মোয়াজ্জেম আকন বাদী হয়ে তালতলী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন (মামলা নম্বর-১২)। তিনি বলেন, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে এই ভারসাম্যহীন বৃদ্ধকে পিটিয়ে মারার ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম জুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। শত শত মানুষ মব সৃষ্টি করে এমন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আটক করার অনুরোধ জানাচ্ছেন।






























