বর্তমান ক্রান্তিলগ্নে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধান

বর্তমান ক্রান্তিলগ্নে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধান

ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ

আমরাসবাই স্বীকার করি যে বাংলাদেশ৫২ বছরে নানা রকমবাধা-বিপত্তি, চড়াই-উতরাই পেরিয়েঅর্থনৈতিক উন্নয়নের মোটামুটি একটা সন্তোষজনক পর্যায়েএসে পৌঁছেছে। অর্থনৈতিক উন্নয়নটা, বিশেষ করে প্রবৃদ্ধি, গ্রোথ, সেটাই বেশি প্রতীয়মান এখন।বাকি যে সার্বিক উন্নয়ন, সে সম্পর্কে এখনো অনেক প্রশ্নআছে। এখন যদি আমরাদেখি আমাদের যে অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সেটা একটা ধারাবাহিকতার মধ্যদিয়ে চলে আসছে।

এটাএমন নয় যে একবা দুই দশকের মধ্যেএগুলো অর্জন করা সম্ভব হয়েছে।গত পাঁচ দশকে কখনোকম অর্জন, কখনো বেশি অর্জন—এভাবে আমরা এই পর্যায়েপৌঁছেছি। এখন আমাদের মূলচ্যালেঞ্জটা হলো আমাদের দেশেরঅর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সামনের দিকে নিয়ে যাওয়া।আমরা স্থায়ী, টেকসই উন্নয়নের ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছি, এখনো সেটা কিন্তু বলাযাবে না।

আমাদেরযে লক্ষ্যগুলো সামনে আছে, তার একটাহলো উচ্চ-মধ্যম আয়েরদেশে যাওয়া, আরেকটা হলো উন্নয়নশীল দেশেরকাতারে যাওয়া।

 

এখনঅর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে আমাদের সামনে নানা রকম সমস্যাএসে দাঁড়াচ্ছে। কিন্তু তার পরও আমরাপাঁচ দশক বা অর্ধশতাব্দীপার করে এসেছি। রাজনৈতিকএকটা অবস্থা দেশে বিরাজ করছে।

এইপরিপ্রেক্ষিতে আমাদের সামনে যেসব সমস্যা ওচ্যালেঞ্জ আছে, সেগুলো আরোবিচক্ষণতার সঙ্গে, শক্তভাবে সেগুলোর সমাধান করতে হবে। তারমানে এই নয়, সামনেযে নির্বাচন আছে, তার আগেসব কিছু করা যাবে।অথবা নির্বাচনের পর যে সরকারআসুক না কেন, তারাদ্রুত সব করে ফেলবে, সেটাও নয়। এখন থেকেইযদি আমাদের প্রস্তুতি না থাকে, তাহলেচ্যালেঞ্জ মোকাবেলা সহজ হবে না।প্রস্তুতি মানে মানসিক প্রস্তুতিএবং আমরা যে ক্রান্তিলগ্নেপৌঁছেছি, সেটা থেকে বেরিয়েআসার কার্যাবলি ঠিক করার মাধ্যমে।

 

বর্তমানক্রান্তিলগ্নে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধানমনে রাখা ভালো, যেকোনোদেশেই রাজনীতি বা রাজনৈতিক যেনেতৃত্ব থাকে, তারা কিন্তু শুধুমূল ভূমিকা পালন করে। অর্থনৈতিকউন্নতি, সামাজিক উন্নয়ন—কোনোটাই কিন্তু সুষ্ঠু এবং ইতিবাচক রাজনৈতিকপরিবেশ না থাকলে হয়না। আমরা বিশেষ করেগণতন্ত্র বলি বা গণতন্ত্রেরএকেবারে খাঁটি-নিখাদ রূপ না হয়েযদি মিশ্র গণতন্ত্র বলি, সেটাও কিন্তুরাজনীতির ওপর নির্ভর করে।এটাই এখন বাংলাদেশের জন্যসবচেয়ে বড় একটা চ্যালেঞ্জ।

 

কারণআমরা দেখতে পাচ্ছি, যে অর্জনটুকু আমরাকরেছি, সেটাকে ধরে রাখতে গেলেচ্যালেঞ্জ আছে, সমস্যা আছে।বিশেষ করে অভ্যন্তরীণ অনেকসমস্যা এখন প্রকট হয়েদাঁড়িয়েছে। তার সঙ্গে বাইরেরসমস্যাগুলো তো আছেই। যেমন—কভিড, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। এগুলো কিন্তু আমাদের ভেতরের সমস্যাগুলোকে আরো জটিল করেফেলেছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে আমারবড় একটা প্রশ্ন, আমরাকি এই কঠিন পরীক্ষারজন্য প্রস্তুত? নির্বাচনের পরে সেই কঠিনপরীক্ষাটা উত্তীর্ণ হয়ে আমরা সামনেএগিয়ে যেতে পারব কিনা? এই প্রশ্নের উত্তরজানতে হলে আমাদের বর্তমানঅবস্থাটা বিবেচনা করতে হবে। বর্তমানেআমরা কী অবস্থায় আছি।আমাদের  দুর্বলতাগুলোকী?

 

প্রথমত, আমরা জানি যে আমাদেরসমস্যা অনেক। মূল্যস্ফীতি, টাকার মূল্যমান কমে যাওয়া, ফরেনরিজার্ভ কমে যাওয়া, ব্যাংকিং, আর্থিক খাতে নানা রকমসমস্যা, হুন্ডি, মুদ্রাপাচার, দুর্নীতি—এগুলো তো আছেই। তারপরএখন আমাদের মূল সমস্যা হলোকর্মসংস্থানের অপ্রতুলতা। সঙ্গে সঙ্গে মানুষের আয়ের সংস্থানও সংকুচিতহয়ে আসছে। তারপর সবচেয়ে বড় একটা ব্যাপারআমরা লক্ষ করছি, দিনদিন কিন্তু আর্থিক বৈষম্য বেড়েই চলছে। আর্থিক বৈষম্য মানে আয়ের বৈষম্যও সম্পদের বৈষম্য। এই যে আর্থিকবৈষম্য ও সম্পদের বৈষম্যসাধারণ মানুষের বা যেকোনো মানুষেরজীবনের ওপর সামাজিক প্রভাবফেলছে। নেতিবাচক প্রভাবই কিন্তু ফেলছে। কারণ আয়ের সংস্থানযদি না থাকে এবংআয়ের বৈষম্য থাকে, তাহলে যতই সার্বিকভাবে সামষ্টিকউন্নতি হোক, বিষয়টার ফলকিন্তু সাধারণ মানুষ ভোগ করতে পারেনা। পারছে না। এটা এখনবাংলাদেশের বাস্তবিক অবস্থা।

 

এখনজানতে হবে এর কারণকী? পাঁচটা কারণ বলতে পারি।একটা হলো আমাদের নীতিরদুর্বলতা। যথাসময়ে যথাযথ নীতি প্রণয়নে আমাদেরদুর্বলতা আছে। নানা রকমদুর্নীতি আছে। আমাদের নীতিরযে দুর্বলতা, সেটার একটা ফল হলোআমাদের এই অর্থনীতির বর্তমানঅবস্থা।

 

দ্বিতীয়ত, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ও আমলাতান্ত্রিক প্রভাব।অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড কিন্তু অর্থনৈতিক বিবেচনায় চলবে। যেমন—ব্যাংক চলবেআর্থিক নিয়মের মধ্যে। সেগুলো ঠিক হয়ে ওঠেনা। কারণ এখানে নানারকম রাজনৈতিক প্রভাব ও আমলাতান্ত্রিক প্রভাব।আবার আমরা সঠিক সিদ্ধান্তযথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে পারি না।

 

তৃতীয়ত, প্রতিষ্ঠান। যেমন—ব্যাংক একটাপ্রতিষ্ঠান। বাজার একটা প্রতিষ্ঠান। তারপরপুঁজিবাজার একটা প্রতিষ্ঠান। এরকম সরকারি ক্ষেত্রে হোক, বেসরকারি ক্ষেত্রেহোক—প্রতিষ্ঠানগুলো এখন দুর্বল। তাদেরদক্ষতা কম। সেখানে দুর্নীতি, নানা রকম অনিয়ম, অব্যবস্থাপনাচলছে।

 

চতুর্থত, নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা; যেমন—বাংলাদেশ ব্যাংক, সিকিউরিটি এক্সচেঞ্জ কমিশন, বিটিআরসি—এই যে নিয়ন্ত্রণকারীসংস্থাগুলো আছে, মনে হয়না তারা খুব দক্ষভাবে, শক্ত অবস্থা নিয়ে এবং স্বাধীনভাবেকাজ করতে পারছে। এখানেকিন্তু নানা রকম প্রভাবআছে। এবং এখানে যেসবকর্মকর্তা আছেন, তাঁরা কিন্তু রাজনীতি ও আমলাতান্ত্রিক প্রভাবমুক্তনন।

 

সবশেষে আমরা দেখতে পারি, সব জায়গায় সুশাসন অর্থাৎ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির অভাব।এটা সরকারি ক্ষেত্রে হোক—সরকারি নানারকম কর্মকাণ্ড, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বলি, প্রশাসন বলিএবং সরকারি অন্যান্য ব্যাপারে বলি, সেখানে কিন্তুস্বচ্ছতা ও জবাবদিহির যথেষ্টঅভাব আছে। অপরদিকে প্রাইভেটসেক্টরেও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কিন্তু খুব ভালোভাবে স্বচ্ছতাও জবাবদিহি করছে না। সেটারপ্রতিফলন আমরা দেখি, যখনআমাদের বাজার অনিয়ন্ত্রিত। মূল্যস্ফীতি ঘটছে। লোকজনের আয়ের সংস্থান কমেযাচ্ছে দিন দিন। লোকজনেরযে নানা রকম সমস্যা, সেগুলোর কিন্তু সমাধান হচ্ছে না। এমন নয়যে সমস্যাগুলোর সমাধানের পথ কেউ জানেনা। এখানে সদিচ্ছা, সচেতনতা ও সততার অভাবরয়েছে।

 

সম্প্রতিডেঙ্গুর ভয়াবহতা একটা প্রকৃষ্ট উদাহরণ।নীতিনির্ধারকরা কথাবার্তা বলে যাচ্ছেন। বিভিন্নপ্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের কথাবার্তাই সর্বস্ব, কাজে তেমন নেই।অনেক সময় বলা হচ্ছে, মানুষ কেন সচেতন হয়না। তবেই ডেঙ্গু কমবে।মানুষ সচেতন হবে, মানুষকে সচেতনকরার জন্য তো সহায়কজিনিস লাগবে। সরকার কিসের জন্য আছে? তারাবলে, ‘মানুষ সচেতন হোন, সব ঠিকহয়ে যাবে।’ এগুলো অনেকটা ছেলে-ভোলানো কথাবার্তারমতো। এটা কিন্তু অভূতপূর্বব্যাপার—বাংলাদেশে কিন্তু এর আগে এরকম ঘটনা খুব দেখেছি।পাঁচটা কারণ আগে উল্লেখকরা হলো, সেগুলো থেকেবেরিয়ে আসতে হবে আমাদের।

 

শ্রীলঙ্কায়বড় একটা রাজনৈতিক টালমাটালঅবস্থা আমরা দেখেছি। দেশটাঅর্থনৈতিকভাবে দেউলিয়া হয়ে যায়। তারাঋণ শোধ করতে পারছিলনা। মূল্যস্ফীতি ৬০ শতাংশ হয়েযায়। কর্মসংস্থান ছিল না। এক-দেড় বছরের মধ্যেতারা ঠিকই ঘুরে দাঁড়িয়েছে।মূল্যস্ফীতি অনেক কমে গেছে।কর্মসংস্থান বেড়েছে। ট্যুরিজম আবার আগের মতোউঠে দাঁড়িয়েছে। অন্যান্য ক্ষেত্রে—আর্থিক ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন এসেছে। সব সমস্যা একবারেসমাধান হয়ে যায়নি। তবেঅনেক ইতিবাচক ধারায় এসেছে। এখানে প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা অনেক বেশি। শ্রীলঙ্কারএকটা স্ট্রং পয়েন্ট হলো, প্রতিষ্ঠানগুলো অত্যন্তসুষ্ঠু ও শক্তিশালী এবংলোকজনও কিন্তু সচেতন। অন্যান্য দেশের তুলনায় শিক্ষিতের হারও অনেক বেশি।তাদের মানবসম্পদকে ব্যবহার করে, প্রতিষ্ঠানগুলোর সুষ্ঠুব্যবহার করে তারা ঘুরেদাঁড়িয়েছে।

 

সবচেয়েবড় বিষয় হলো, আর্থিকখাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের যে করণীয় কাজগুলো, সেখানে কিন্তু কোনো হস্তক্ষেপ করাহয়নি। কোনো রকম রাজনৈতিকঅস্থিরতার মুখে পড়েনি। তারাঋণের সুদের হার বাড়িয়েছে। বিভিন্নজায়গায় ঋণ দেওয়ার ব্যাপারেকন্ট্রোল করেছে। ব্যাংকগুলোকে ঠিকমতো পুঁজি গঠন করার জন্যযে নির্দেশনাগুলো দেওয়া হয়েছে, সেগুলো পরিপালন করা হয়েছে। এজন্যই তারা সামনের দিকেএগিয়ে গেছে।

 

অপরদিকেআমরা যদি তুলনা করি, আমাদের কিন্তু যথেষ্ট ঘাটতি রয়ে গেছে। প্রতিষ্ঠানবলি, মানবসম্পদের ব্যাপারে বলি, এখানে কিছুটাপার্থক্য রয়ে গেছে। বলবনা যে শ্রীলঙ্কা বাংলাদেশেরচেয়ে ভালো। বাংলাদেশ এখনো ভালো অবস্থানেআছে। শ্রীলঙ্কাকে অনুকরণ করতে বলছি না।তবে তাদের থেকে আমরা শিক্ষণীয়জিনিস গ্রহণ করতে পারি। তারাকিভাবে কঠিন সময়গুলো পারকরে ভালো অবস্থানে নিজেদেরনিয়ে গেছে, সেটা গ্রহণ করতেপারি। এমন নয় যেবাংলাদেশে এটা আমরা জানিনা। আমি দৃষ্টি আকর্ষণকরলাম এই জন্য যেআমাদের কী করা প্রয়োজন, সেটাই আমাদের সবচেয়ে বেশি করে জানতেহবে।

 

প্রথমত, আমাদের সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি আনতেহবে। দ্বিতীয়ত, দুর্নীতি, সরকারি সম্পদের অপচয়, অর্থের অপচয় রোধ করতেহবে। তৃতীয়ত, নিয়ম-নীতি যেগুলোআছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম হোক বাঅন্যান্য সংস্থার নিয়ম হোক, সেগুলোখুব যত্নের সঙ্গে পরিপালন করতে হবে। চতুর্থত, আমাদের আর্থিক ব্যবস্থাপনা—সুদের হার এখনো বাজারমুখীকরা হয়নি। এক্সচেঞ্জ রেট, যেটা আমাদেরটাকার মূল্যমান এখনো আমরা ভালোকরতে পারিনি। বিভিন্ন অ্যাকশন নেওয়ার পরও আমরা খুবউন্নতির চিহ্ন দেখতে পাচ্ছি না।

 

তারপরআরেকটা ব্যাপার হলো, ব্যাংকিং সেক্টরেওরিফর্ম করা দরকার। খেলাপিঋণ রোধ করতে হবে।তারপর আমাদের প্রাইভেট সেক্টর, বিশেষ করে বড় বড়শিল্প দরকার আছে, কিন্তু আমাদেরছোট-মাঝারি কুটির শিল্প—এগুলোকে আরো উত্সাহ দানকরা। যতই আমরা মুখেকথা বলি, এসএমই সেক্টরখুব ভালো, ঋণ পাচ্ছে, আসলেতো ঋণ তাদের কাছেতেমন যাচ্ছে না। সহায়তা খুবযে যাচ্ছে, তা তো মনেহয় না। আমাদের কর্মসংস্থানএবং উৎপাদনশীল খাত হচ্ছে ছোট-মাঝারি শিল্প ও বাণিজ্য খাত।এগুলো পণ্য উৎপাদন করে।সেবা উৎপাদন করে। এগুলো যদিবাড়ানো যেত, তাহলে মুদ্রাস্ফীতিঅনেক কমে যেত। সেদিকেতেমন খেয়াল নেই।

 

এখনএফডিআই আসবে কী করে? বাংলাদেশের অবস্থা যে স্থিতিশীল নয়, রাজনৈতিক অবস্থা কিছুটা টালমাটাল, এটা তো লোকজনজানে। নির্বাচনের পরও যদি এইঅবস্থা থাকে, তাহলে এফডিআই আসা, বাইরে থেকেবিনিয়োগ আসা কঠিন হবে।এটা না এলে কিন্তুআমাদের রিজার্ভ বাড়বে না। তখন আমাদেরটাকার মূল্যও যে বাড়াতে পারব, সেটাও মনে হয় না।আমাদের যারা নীতিনির্ধারক, এমনকিবাস্তবায়নকারী আমলারা—মানুষ যে একটা মতামতদেয়, সেটার কিন্তু কোনো কিছুই তাঁরাআমলে নিতে চান না।লোকজন যখন বলছে, বিশেষজ্ঞরাযখন কোনো কিছু বলছে, সেটা শোনা দরকার। এটাকিন্তু অন্য কোনো দেশেহয় না। বিভিন্ন দেশেথিংকট্যাংক আছে। মুক্তবুদ্ধির চিন্তাযারা করে, তাদের কথাশোনা হয়। কিন্তু বাংলাদেশেসেটা খুব কমই। যারাক্ষমতার বলয়ে থাকে, যাদেরআর্থিক ক্ষমতা আছে, তাদের ধারণাতারাই সব জানে। তারাইসব করতে পারে। জনগণকেসম্পৃক্ত করার ব্যাপারে তাদেরতেমন কোনো আগ্রহ দেখাযাচ্ছে না, বিশেষ করেনীতিনির্ধারক ও আমলাদের মধ্যে।এটাই আমাদের একটা বড় সমস্যা।এই মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতেনা পারলে আমরা স্থায়ী টেকসইউন্নয়নের দিকে যেতে পারবন।

লেখক :

সাবেক গভর্নর, বাংলাদেশ ব্যাংক;

অধ্যাপক, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়