ভাটার আগুনের তাপে ধামরাইয়ের ২৫ একর বোরো ধান পুড়ে নষ্ট, কৃষকদের ক্ষতিপূরণের দাবি

ঢাকার ধামরাই উপজেলার ইটভাটার আগুনের তাপে ও বিষাক্ত ধোঁয়ার কারনে প্রায় ২৫ একর জমির বোরো ধান নষ্ট হয়ে গেছে।

এ ঘটনায় উপজেলাটির আমতা ইউনিয়নে অন্তত পাঁচটি গ্রামের শতাধিক প্রান্তিক কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
এই ফসল থেকেই তাদের সারা বছরের খাদ্যশস্যের যোগান আসার কথা ছিল।

ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে অনেকেই ঋণ নিয়ে কিংবা অন্যের জমি বর্গা নিয়ে ধান চাষ করেছিলেন। কিন্তু হঠাৎ এমন ক্ষতিতে তারা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানাযায়, ধামরাই উপজেলার আমতা ইউনিয়নের নান্দেশ্বরী এলাকায় তিন ফসলি জমির পাশেই গড়ে উঠেছে আলিফ ব্রিকস, টাইগার ব্রিকস ও আল মদিনা ব্রিকস নামের তিনটি ইটভাটা, ভাটাগুলোতে দিন, রাত চলে ইটপোড়ানোর কাজ।

ফলে আগুনের তীব্র তাপ ও ধোঁয়ার প্রভাবে পাশের কৃষিজমির ধান পুড়ে নষ্ট হয়ে যায়।

ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মধ্যে আমতা ইউনিয়নের বাউখন্ড, নান্দেশ্বরী, চালা, নারায়ণপুর ও ভবনহাটি গ্রাম উল্লেখযোগ্য।

স্থানীয় কৃষকদের দাবি, ইটভাটা গুলোর কারনে নিয়মিতভাবেই তারা ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। তাই দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত করে ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার দাবী জানিয়েছেন তারা।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আবদুল মান্নান মিয়া জানান,
এই ধানই আমরা সারা বছর পরিবার নিয়ে খেয়ে থাকি। এখন আমরা খাবো কি? পরিবার কে নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে।

আমি ৭০ শতাংশ জমিতে ধান চাষ করেছি। টাকা পয়সা খরচ করে ধান রোপণ করেছিলাম। ইটভাটা গুলো কৃষকদের ধান পুড়ে নষ্ট করে দিলো। আমরা এর বিচার চাই আমাদের নষ্ট ফসলের ক্ষতিপূরণ চাই।

ভ্যানচালক দেলোয়ার হোসেন জানান, আমি এখানে ৩ শতাংশ জমিতে ধান চাষ করেছিলাম। ভ্যান চালিয়ে উপার্জিত অর্থ দিয়ে সার, কীটনাশক কিনে এই জমিতে দিয়েছি।

শ্রমিক দিয়ে কাজ করানোর মতো সামর্থ নাই তাই নিজেই জমিতে কাজ করেছি। আজকে জমিতে এসে দেখি আমার কষ্টের সব ধান পুড়ে নষ্ট হয়ে গেছে।

এটা দেখে আমার এখন বাঁচার উপায় নাই। আমার ২ পায়েই সমস্যা থাকায় ভ্যান চালিয়ে ও এই জমির ধান দিয়েই পরিবারের সারা বছরের খাবারের যোগান হতো। সবসময় ভ্যান চালাতে পারি না। তখন টাকা ইনকাম কম হলে এই ধান বিক্রি করেই ছেলে মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালাই। এখন আমি পরিবার নিয়ে কিভাবে বছর পার করবো!

এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত জমি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন ধামরাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরিফুর রহমান।
তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে ইটভাটার কারণেই ধানের এ ক্ষতি হয়েছে। আমরা উপজেলা প্রশাসন কে বিষয়টি অবগত করেছি। অতি দ্রুতই ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হবে।

এ বিষয়ে ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল মামুন আওয়ার নিউজকে বলেন, আমাদের কৃষি অফিসার তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পেয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা যেন ক্ষতিপূরণ পান সেই লক্ষ্যে ইটভাটার মালিক ও কৃষকদের সাথে বসে যথাযথ ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হবে।

উল্লেখ্য, ধামরাইয়ে প্রতি বছরই ইট ভাটার কারনে কৃষি জমির ক্ষতির অভিযোগ উঠে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এ ধরনের ক্ষতি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা এবং কৃষকদের ফসলের সুরক্ষা নিশ্চিতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে সরকার।