নেত্রকোনার মদনে আইনজীবি হত্যা মামলার জের সংঘর্ষে আহত ৫

নেত্রকোনার মদনে শিক্ষানবিশ আইনজীবি হাফিজুর রহমান হত্যা মামলার জের ধরে সংঘর্ষে উভয় পক্ষে ৫ জন আহত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এ সময় নিহত আইনজীবির পরিবারের লোকজনের গরু ও নগদ ২০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ উঠেছে।

অপর দিকে প্রতিপক্ষের দুটি ছেলা ঘর ভাংচুর করা হয়। এ নিয়ে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের দেওসহিলা- ছালাকান্দা গ্রামে শনিবার সকালে এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, ২০২২ ইং তারিখে শিক্ষানবিশ আইনজীবি হাফিজুর রহমানকে জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় মোতাহার আলম রফিককে প্রধান আসামী করে ৪৪ জনকে আসামী করা হয়। আসামী মোতাহার আলম রফিক বর্তমানে কোর্ট থেকে জামিনে মুক্ত রয়েছেন।

হত্যা মামলার পর থেকেই মোতাহার আলমের দলের লোকজন বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র পালিয়ে বেড়ায়। এদিকে শনিবার সকালে হাওর থেকে নিহতের চাচাতো ভাই রিগান বাড়ির দিকে আসার সময় প্রতিপক্ষের লোকজনের সাথে হাতাহাতি ও বাকবিতন্ডা হয়।

এতে ২ পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এদিকে ঘর নির্মাণের খবর ছড়িয়ে পড়লে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষে মিলন, মৌখিত, সামারুল, খেলনকে মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে তাদের অবস্থা আশষ্কাজনক থাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে প্রেরণ করা হয়। প্রতিপক্ষের আহত রিগেনকে মদন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

নিহত আইনজীবির বড় ভাই অবসর প্রাপ্ত সেনা সদস্য কিরণ চৌধুরী জানান, গত ৪ বছর হল আমার চাচাতো ভাইকে তারা হত্যা করেছে। হত্যা মামলা এখনও শেষ হয়নি। এর মধ্যে তারা বাড়িতে এসে ঘর তৈরি করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পাঁয়তারা করে। আমরা ঘর তৈরি করতে বাধাঁ দিয়েছি।

প্রতিপক্ষের মোতাহার আলম রফিক জানান, আমরা ৪ বছর ধরে বাড়ি ছাড়া। ইদানিং বাড়িতে এসে আমার দলের লোকজন দুটি ঘর নির্মাণ করতে চাইলে প্রতিপক্ষের লোকজন বাধাঁ দেয়। এতে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। তারা আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা গরু লুটের অভিযোগ তুলেছে।

মদন থানার ওসি হাসনাত জামানা জানান, ফতেপুর ইউনিয়নের দেওসহিলা ছালাকান্দা গ্রামে শনিবার সকালে দু’পক্ষের সংঘর্ষ হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে প্রেরণ করা হয়েছে। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।