খুলনায় তেলের খোঁজে হাহাকার: পাম্পে দীর্ঘ লাইন, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন

খুলনা মহানগরী–তে হঠাৎ করেই জ্বালানি তেলের জন্য ছোটাছুটি শুরু হয়েছে। নগরীর বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে দেখা গেছে মোটরসাইকেল ও অন্যান্য যানবাহনের দীর্ঘ সারি কোথাও সেই লাইন কয়েকশ’ মিটার পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। তেলের খোঁজে এক পাম্প থেকে আরেক পাম্পে ঘুরতে ঘুরতে অনেক চালকের মোটরসাইকেলে থাকা সামান্য জ্বালানিও শেষ হয়ে যাচ্ছে।
শনিবার নগরীর বিভিন্ন পাম্প ঘুরে দেখা যায়, অনেক পাম্পে ‘তেল নেই’ সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। বিশেষ করে নগরীর বেশিরভাগ পাম্পে মোটরসাইকেল ও অন্যান্য যানবাহনের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়, যেখানে চালকেরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তেল পাচ্ছেন না।
পাম্প মালিকদের দাবি, শুক্রবার ও শনিবার তেলের ডিপো বন্ধ থাকায় সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু পাম্পে তেল থাকা সত্ত্বেও বিক্রি সীমিত করা হচ্ছে বা গোপনে মজুত রাখা হচ্ছে যা কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে।
অন্যদিকে আতঙ্কে অনেক চালক প্রয়োজনের চেয়ে বেশি তেল সংগ্রহের চেষ্টা করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। ফলে স্বাভাবিক বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
এদিকে যশোর ও সাতক্ষীরা জেলায় তেল মজুত ও বিক্রি নিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চলার খবর পাওয়া গেলেও খুলনা মহানগরীতে এখনো তেমন কোনো দৃশ্যমান অভিযান দেখা যায়নি বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় চালক ও বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, যদি দেশে তেলের কোনো সংকট না থাকে, তাহলে খুলনায় এই বিশৃঙ্খলা কেন? পাম্প মালিকদের স্বেচ্ছাচারিতা, ক্রেতাদের অতিরিক্ত মজুত প্রবণতা এবং প্রশাসনের নীরবতা সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষকেই সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
চালকদের দাবি, দ্রুত বাজার তদারকি, মজুতদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং নিয়মিত সরবরাহ নিশ্চিত না করলে পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে উঠতে পারে।






















