খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের ১২ সদস্য প্রত্যাহার

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) গত তিন মাসে ১২ পুলিশ সদস্যকে বিভিন্ন গুরুতর অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করেছে। প্রত্যাহারের তালিকায় রয়েছে সন্ত্রাসী ও মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া, সাধারণ জনগণকে হয়রানি, মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সখ্যতা, চাঁদাবাজি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ।

খোঁজে জানা যায়, গত ১৫ মার্চ রাতে দৌলতপুর থানার মহেশ্বর পাশা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই জাহাঙ্গীর মোল্লা চিহ্নিত সন্ত্রাসী ইমন হাওলাদার ওরফে গজাল ঈমনকে ধরতে অপেক্ষা করছিলেন। সন্ত্রাসী পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে, কিন্তু এসআই জাহাঙ্গীর কোনো পাল্টা গুলি ছোড়েননি বা আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেননি। ঘটনার কিছুক্ষণ পরে ওই সড়ক দিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন ট্যুরিজম প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আশরাফুল ইসলাম সজল। তাকে সন্ত্রাসীর সহযোগী সন্দেহে আটক করে ফাঁড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সজলকে নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় স্থানীয়রা ফাঁড়ি ঘিরে বিক্ষোভ করলে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোঃ রাশেদুল ইসলাম খানের আশ্বাসে সজল মুক্তি পান।

ভুক্তভোগী আশরাফুল ইসলাম সজল অভিযোগ করেন, মূল আসামিকে ধরতে না পারার অপরাধ ঢাকতে আমাকে আসামি সাজিয়ে বড় স্যারের কাছে দেখানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল।

পরবর্তীতে ১৬ মার্চ এসআই জাহাঙ্গীর মোল্লাকে মহেশ্বরপাশা পুলিশ ফাঁড়ি থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়। কেএমপি কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে উল্লেখ করেছেন, সন্ত্রাসীদের ধরতে পদক্ষেপ গ্রহণ না করে চরমভীরতা ও অদক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন এসআই জাহাঙ্গীর মোল্লা। এছাড়া তার বিরুদ্ধে সাধারণ জনগণকে হয়রানি এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগও রয়েছে। অফিস আদেশে আরও বলা হয়েছে, এই ঘটনার কারণে জনমনে পুলিশের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

একই ঘটনার পর নগরীর মোস্তফা মোড় এলাকায় টহলরত আরও কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে লক্ষ্য করে সন্ত্রাসীরা গুলি ছোড়ে। অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে পাল্টা গুলি না ছোড়া এবং ওয়ারলেসের না জানানোর অভিযোগে হরিণটানা থানার এসআই গোলাম মোস্তফা, এএসআই ফারুক হোসেন, এএসআই আব্দুস সামাদ, এএসআই তহিদুল ইসলাম এবং খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ ফাঁড়ির টিএসআই ওবায়দুল হককে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।

সন্ত্রাসীদের সঙ্গে সখ্যতা ও মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগে দৌলতপুর থানার এসআই মোঃ আব্দুল হালিম ও এএসআই জাহাঙ্গীর হোসেনও পুলিশ লাইনে স্থানান্তরিত হয়েছেন। এছাড়া, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নগরীর লবণচড়া এলাকার মিল ও কলকারখানা থেকে আর্থিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগে লবণচড়ার থানার এসআই মিজানুর রহমান, এএসআই জাহাঙ্গীর হোসেন, কনস্টেবল উৎপল হালদার এবং এএসআই খালিদ হোসেনকেও সংযুক্ত করা হয়েছে।

কেএমপি কমিশনার জাহিদুল হাসান বলেন, চেকপোষ্টে সন্ত্রাসীরা গুলি করেছে, পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। আইনের অধীনে প্রত্যেক পুলিশ সদস্যের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে। তবে দায়িত্ব অদক্ষতার জন্য আমরা প্রত্যাহার করেছি। এটি অন্য পুলিশ সদস্যদের সতর্কবার্তা।

তিনি আরও বলেন, যাদের মধ্যে ঘাটতি আছে, যারা মাদক বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত, তাদেরও সংশোধন করে প্রধান দলে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে কেএমপি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে- অদক্ষতা, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও সন্ত্রাসী নীরবতা কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না, অন্য পুলিশ সদস্যদেরও দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার নৈতিক ও পেশাদারিত্বের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।