মৃত্যুফাঁদে পরিণত মরা শিশুগাছ, রাজগঞ্জ-ঝিকরগাছা সড়কে আতঙ্কে পথচারীরা

যশোরের রাজগঞ্জ-ঝিকরগাছা সড়কের কাসেমপুর গ্রাম সংলগ্ন সড়কের পাশে দীর্ঘদিন ধরে একটি রোড শিশুগাছ মরে দাঁড়িয়ে রয়েছে। ব্যস্ততম এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার পথচারী, যানবাহন, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যাতায়াত করলেও ঝুঁকিপূর্ণ গাছটি অপসারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়ছে না। ফলে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গাছটি দীর্ঘদিন আগে শুকিয়ে মারা গেলেও এখনও সড়কের পাশেই বিপজ্জনক অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে। যেকোনো সময় ঝড়-বৃষ্টি কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগে এটি ভেঙে সড়কের ওপর পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ চলাচল করেন। কিন্তু দৃশ্যমান ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও গাছটি অপসারণে এখন পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
সম্প্রতি মদনপুর সম্মিলনী ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মোঃ শফিয়ার রহমান বিষয়টি নিয়ে একটি ভিডিও প্রতিবেদন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করেন। প্রতিবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, মরে দাঁড়িয়ে থাকা গাছটি জননিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠেছে এবং যেকোনো সময় এটি সড়কের ওপর ভেঙে পড়ে প্রাণহানির ঘটনা ঘটাতে পারে।
তিনি আরও বলেন, “দুর্ঘটনা ঘটার পর ব্যবস্থা নেওয়ার চেয়ে আগে থেকেই ঝুঁকি দূর করা অধিক গুরুত্বপূর্ণ। একটি পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তি বা কোনো শিক্ষার্থী যদি এই গাছের নিচে চাপা পড়ে প্রাণ হারান, তাহলে সেই পরিবারের জন্য নেমে আসবে অপূরণীয় ক্ষতি ও দুর্ভোগ। তাই জনস্বার্থে দ্রুত গাছটি অপসারণ করা জরুরি।”
স্থানীয় বাসিন্দারাও একই দাবি জানিয়ে বলেন, প্রতিনিয়ত মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে তারা এই সড়ক ব্যবহার করছেন। বিশেষ করে ঝড়ো আবহাওয়ায় গাছটি নিয়ে আতঙ্ক আরও বেড়ে যায়। তারা দ্রুত গাছটি অপসারণ করে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এলাকাবাসীর মতে, সামান্য অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার কারণে একটি বড় দুর্ঘটনা ঘটে যাওয়ার অপেক্ষায় না থেকে এখনই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। অন্যথায় যেকোনো সময় ঘটতে পারে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা। যার দায় এড়াতে পারবে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সচেতন মহলের প্রশ্ন- দুর্ঘটনা ঘটার পর নড়েচড়ে বসবে প্রশাসন, নাকি তার আগেই অপসারণ করা হবে এই সম্ভাব্য মৃত্যুফাঁদ?






























