খাগড়াছড়ির পানছড়িতে গুলিবিদ্ধ ইউপিডিএফ সংগঠক নীতিদত্ত চাকমা নিহত

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার পানছড়িতে নীতি দত্ত চাকমা নামে ইপিডিএফ-গণতান্ত্রিক সংগঠনের উপজেলা সহ-সভাপতি নিহত হয়েছে। পানছড়িতে প্রতিপক্ষের গুলিতে ইউপিডিএফ(গণতান্ত্রিক) নেতা নিহত খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার পানছড়ি উপজেলায় প্রতিদ্বন্দ্বী আঞ্চলিক সংগঠনের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (গণতান্ত্রিক)-এর এক শীর্ষ নেতাকে গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটেছে।
এতে পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
২৭ মার্চ শুক্রবার সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে উপজেলার সূতকর্মা পাড়া (মানিক্যপাড়া) এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। নিহত নীতিদত্ত চাকমা(৫৮) ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক)-এর পানছড়ি উপজেলা সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। নিহতের মরদেহ খাগড়াছড়ি জেলা সদর হাসাপাতালে রয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সদর থানার ওসি কায় কিসলু। তিনি জানান, হাসাপাতাল থেকে খবর পেয়ে সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়। হাসপাতালের ডেথ সাটিফিকেট অনুযায়ী পরিচয় জানা যায়। চিকিৎসকের বরাত দিয়ে ওসি জানান, হাসপাতালে মৃত অবস্থায় নীতি দত্ত চাকমাকে আনা হয়।
স্থানীয সংবাদ তবে এ বিষয়ে কোন কিছু স্পষ্ট করে জানাতে পারেননি পানছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস ওয়াহিদ। তিনি জানান, ঘটনা শুনার পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে কখন জানাতে পারবেন এমন প্রশ্নে বলতে পারছিনা বলে জানান পানছড়ি থানার ওসি।
এদিকে স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, পানছড়ি উপজেলার মানিক্য পাড়ায় সকালে নিজেদের অর্ন্তকোন্দলে দত্ত চাকমা গুলিবিদ্ধ হন। তিনি পানছড়ি উপজেলায় ইউপিডিএফ-গণতান্ত্রিক সংগঠনের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করছিলেন। একইসাথে পোস্ট পরিচালক হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন নীতি দত্ত চাকমা।
এলাকায় লটারি পরিচালনাকে কেন্দ্র করে নিজেদের অর্ন্তকোন্দলে বুকে গুলিবিদ্ধ হন। সেখান থেকে উদ্ধার করে প্রথমে পানছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য নেশা হলে দ্রুত তাকে জেলা সদর হাসাপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে মৃত অবস্থায় আনা হয়েছে বলে ডেথ সাটিফিকেটে উলেখ করা হয়।
অন্যদিকে উপিডিএফ-গণতান্ত্রিক সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অমর জ্যোতি চাকমা জানান, লটারি বা নিজেদের অর্ন্তকোন্দলে নয়, নীতি দত্ত চাকমা সাংগঠনিক কাজে যাওয়ার পথে ইউপিডিএফ-প্রসীত গ্রুপের সশস্ত্র লোকজন তাকে এলোপাতাড়ি গুলি করে হত্যা করে পালিয়ে যায় এমন অভিযোগ করেন অমর জ্যোতি চাকমা।
তবে ইউপিডিএফ-প্রসীত গ্রুপ এমন অভিযোগ অস্বীকার করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বরকল দিক থেকে আসা প্রসীত বিকাশ খীসার নেতৃত্বাধীন ইউপিডিএফের একটি সশস্ত্র দল অতর্কিতভাবে নীতিদত্ত চাকমার ওপর হামলা চালায়। ৮-১০জনের ওই সশস্ত্র গ্রুপটির নেতৃত্বে ছিলেন বিক্রম চাকমা নামে এক গ্রুপ কমান্ডার।
হামলার সময় খুব কাছ থেকে তাকে লক্ষ্য করে একাধিক রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি গুরুতর আহত হন। পরে হামলাকারীরা দ্রুত রাবার ড্যাম এলাকার দিকে পালিয়ে যায়।
গুলিবিদ্ধ নীতিদত্ত চাকমাকে দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে পানছড়ি সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে খাগড়াছড়ি শহরের পার্ক সাইড হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে সকাল আনুমানিক ১০টা ৪৫মিনিটে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
চিকিৎসকদের মতে, তার বুকে ও পিঠে গুলি লেগেছিল, যা তার মৃত্যুর প্রধান কারণ। নিহত নীতিদত্ত চাকমার বাড়ি পানছড়ি উপজেলার সূতকর্মা পাড়ায়। তিনি বর্ন চাকমার ছেলে।
ধারণা করা হচ্ছে, পার্বত্য চট্টগ্রামে সক্রিয় আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। সা¤প্রতিক সময়ে এমন সহিংসতা বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ আরও তীব্র হয়েছে।
ঘটনার পরপরই এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক)-এর কেন্দ্রীয় সভাপতি সমীরণ চাকমা তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য না করলেও শিগগিরই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
পানছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফেরদৌস ওয়াহিদ জানিয়েছেন, মরদেহ বর্তমানে খাগড়াছড়ির একটি হাসপাতালে রাখা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তা স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।






























