খুলনায় চিকিৎসাধীন সুন্দরবনে উদ্ধার বাঘ

সুন্দরবনে চোরা হরিণ শিকারিদের পাতা ফাঁদে আটকে পড়া বাঘটিকে অবশেষে উদ্ধার করেছে বনবিভাগের বিশেষজ্ঞ দল। রবিবার (০৪ জানুয়ারি) রাতে বাঘটিকে খুলনার বন্যপ্রাণী পুনর্বাসন কেন্দ্রে নিয়ে আসা হয়। সেখানে বাঘটিকে নিবিড় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এর আগে ‘ট্রানকুইলাইজার গান’ দিয়ে অচেতন করে ফাঁদ থেকে বের করার পর বাঘটিকে খাঁচায় বন্দি করে নদীপথে খুলনায় আনা হয়।
বনবিভাগ সূত্র জানায়, উদ্ধার হওয়া বাঘটি পূর্ণবয়স্ক পুরুষ। তার সামনের বাম পা ফাঁদে আটকে ছিল দীর্ঘদিন। এতে পায়ে গভীর ক্ষত ও টিস্যু ক্ষয় হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, চার থেকে পাঁচ দিন ধরে বাঘটিকে ফাঁদে আটকে থাকতে হয়েছে।
শনিবার দুপুরের পর মোংলার শরকির খাল এলাকা থেকে ফাঁদে বাঘ আটকে থাকার খবর পেলে বনবিভাগ উদ্ধার অভিযান শুরু করে। রোববার দুপুরে ঢাকা থেকে ভেটেরিনারি সার্জনসহ বিশেষজ্ঞ দল পৌঁছে উদ্ধার কাজে অংশ নেন। খুলনা বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের কর্মকর্তারাও অভিযানে যুক্ত ছিলেন।
চাঁদপাই রেঞ্জের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আজাদ কবির বলেন— বাঘটিকে খুলনায় রেস্কিউ সেন্টারে আনা হয়েছে। তার শরীরে স্যালাইন ও ওষুধ দেওয়া হচ্ছে। বাকি শারীরিক অবস্থা খুব একটা ভালো নয়। চিকিৎসা শেষে পরবর্তী করণীয় বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বনবিভাগের বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের খুলনা কার্যালয়ের স্মার্ট ডাটা কো-অর্ডিনেটর মো. মফিজুর রহমান চৌধুরী জানান— রোববার দুপুর আড়াইটার দিকে বাঘটিকে ট্রানকুইলাইজার দিয়ে অচেতন করা হয়। উদ্ধার শেষে চিকিৎসার জন্য খুলনায় নেওয়া হয়েছে।
খুলনা অঞ্চলের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা নির্মল কুমার পাল বলেন— বন্যপ্রাণী পুনর্বাসন কেন্দ্রে বাঘটির নিবিড় চিকিৎসা চলছে। চিকিৎসায় সহায়তার জন্য গাজীপুর সাফারি পার্কের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. জুলকার নাইম খুলনায় এসেছেন।
বন কর্মকর্তারা বলছেন, সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় হরিণ শিকারের জন্য পাতা তারের ফাঁদে প্রায়ই হরিণ, বন্যশূকরসহ বড় প্রাণী আটকে পড়ে। কখনও কখনও ওই ফাঁদেই বাঘ–চিতলসহ শীর্ষস্থানীয় বন্যপ্রাণীও মারাত্মকভাবে আহত হয়।
উদ্ধারকৃত বাঘটিকে সুস্থ করা গেলে পরবর্তীতে পর্যবেক্ষণ শেষে পুনরায় বনাঞ্চলে অবমুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছে বনবিভাগ।
খাঁচায় শুয়ে থাকা বাঘটির চোখে এখনও আতঙ্কের ছাপ। রক্তাক্ত পায়ে স্যালাইন চলছে, ক্ষতস্থানে অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ করা হচ্ছে। বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের ভাষায় এটি কেবল একটি বাঘের জীবনরক্ষার লড়াই নয়, এ যুদ্ধ সুন্দরবনের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষারও সংগ্রাম।





























