খুলনায় বিএনপি অফিসে ঢুকে গুলি, যুবদল নেতাসহ আহত ২

খুলনার লবণচরা এলাকার একটি রাজনৈতিক কার্যালয় দুপুরের নিস্তরঙ্গ সময়। বাইরে বাজারের কোলাহল, ভেতরে কয়েকজন নেতাকর্মীর আড্ডা। হঠাৎ সেই স্বাভাবিক দৃশ্য ভেঙে দেয় গুলির শব্দ। মুহূর্তেই আতঙ্কে ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকা। পূর্ব শত্রুতার জেরে বিএনপি অফিসে ঢুকে যুবদলের এক সদস্যসহ দু’জনকে গুলি করে আহত করার ঘটনায় এখনো থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) দুপুরে পুটিমারী বাজার সংলগ্ন ১নং জলমা ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড বিএনপি অফিসে ঘটে এই চাঞ্চল্যকর হামলা। গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন পুটিমারী বাজার কমিটির সভাপতি ও যুবদল সদস্য মাসুম বিল্লাহ (৩৩) এবং জাহিদ (৩৫)।

স্থানীয়রা জানান, ঘটনার সময় মাসুম বিল্লাহ ও জাহিদ অফিসের ভেতরে বসে কথা বলছিলেন। এমন সময় পূর্ব শত্রুতার জেরে বিভিন্ন মামলার আসামি হিসেবে পরিচিত পারভেজ (৩৪) সেখানে প্রবেশ করে। প্রথমে কিছুক্ষণ কথোপকথনের পর চলে গেলেও, কয়েক মিনিট পর ফিরে এসে আচমকাই গুলি ছোড়ে। লক্ষ্য ছিল মাসুম বিল্লাহ কিন্তু গুলির সেই ভয়াল মুহূর্তে প্রতিরোধ করতে গিয়ে আহত হন জাহিদও।

গুলির শব্দে মুহূর্তেই এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। আশপাশের দোকানপাটে নেমে আসে অস্বস্তিকর নীরবতা। স্থানীয়রা দ্রুত ছুটে এসে আহতদের উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে তারা হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের ১১ ও ১২ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন।

হাসপাতালের শয্যায় শুয়ে জাহিদ বলেন, আমরা দু’জন অফিসে বসে ছিলাম। হঠাৎ পারভেজ এসে মাসুমকে লক্ষ্য করে গুলি করে। আমি ঠেকাতে গেলে আমার হাতেও গুলি লাগে।

অন্যদিকে মাসুম বিল্লাহ জানান, আমি ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী। পারভেজ আগে এসে কথা বলে চলে যায়। পরে আবার ফিরে এসে আমাকে লক্ষ্য করে গুলি করে। আমি পালাতে গেলে পিছনের দরজার দিকেও এসে আমার পায়ে গুলি করে।

এই বর্ণনা যেন কেবল একটি হামলার গল্প নয় এটি একটি পরিকল্পিত আক্রমণের ইঙ্গিত দেয় বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, পূর্ব শত্রুতার জের থাকলেও এভাবে প্রকাশ্যে রাজনৈতিক কার্যালয়ে ঢুকে গুলি চালানো নিরাপত্তা ব্যবস্থার বড় ধরনের দুর্বলতা তুলে ধরে।

ঘটনার পরপরই লবণচরা থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং অভিযুক্ত পারভেজকে গ্রেফতারে অভিযান শুরু করেছে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ মোশারেফ হোসেন জানান, প্রাথমিকভাবে পূর্ব শত্রুতার জেরে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে বিস্তারিত জানানো হবে।

এদিকে এই ঘটনার পর পুরো এলাকায় বিরাজ করছে চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক। রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা থাকায় ঘটনাটি আরও গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এ ধরনের সহিংসতা ভবিষ্যতে আরও বড় আকার ধারণ করতে পারে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজনৈতিক অঙ্গনে সহিংসতা নতুন নয়, তবে একটি দলীয় কার্যালয়ের ভেতরে ঢুকে প্রকাশ্যে গুলি চালানো উদ্বেগজনক বার্তা দেয়। এটি শুধু আইনশৃঙ্খলার প্রশ্ন নয়, বরং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক পরিবেশ নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।

এখন প্রশ্ন একটাই এই ঘটনার দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত কি ভরসা ফিরিয়ে আনতে পারবে? নাকি ভয় আর অনিশ্চয়তাই হয়ে উঠবে লবণচরার নতুন বাস্তবতা?