পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় তরুণী গৃহবধূর মৃত্যু নিয়ে রহস্য

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় তরুণী এক গৃহবধূর মৃত্যু নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। মৃত্যুর একদিন পরে স্থানীয় সহ সচেতন স্বজনদের মনে সন্দেহের দানা বেঁধেছে। আবার অনেকেই বলছেন, যৌতুকের হোন্ডা নিয়ে বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে তরুনী গৃহবধূ রুমানাকে মেরে ফেলা হয়েছে।

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ডালবুগঞ্জ গ্রামের রাব্বি ওরফে হানজালার স্ত্রী রুমানা আক্তারের (১৯) মরদেহ সোমবার বিকালে (২মার্চ) শশুর বাড়ির শয়ন কক্ষ থোকে উদ্ধার করে পুলিশ। ওইদিন সকালের কোন এক সময় মৃত্যুর ঘটনা ঘটলেও বিকেল তিনটায় মরদেহের সুরতহাল করে মর্গে প্রেরণ করা হয়।

তবে এই তরুণীর মৃত্যুর খবর নিয়ে জল্পনার শেষ নেই লোকমুখে। কেউ কেউ বলছেন, মৃত রুমানা ৪ বোনের মধ্যে ৩ নম্বর।

ওর বড় দুই বোন জামাতাকে বাবার বাড়ি থেকে হোন্ডা কিনে দিলেও দেওয়া হয়নি রুমানার জামাতাকে। এ নিয়ে বিয়ের ৬ মাসের মধ্যে বেশ কয়েকবার ঝামেলার সৃষ্টি হয়েছে। তবে মৃত্যুর আগে ঠিক কি ঘটেছে তা কেউ বলতে পারছেন না।

মৃতের মেজো বোন জামাতা মাওলানা নাঈমুল ইসলাম জানান, সোমবার রাত ১টার দিকে আমার স্ত্রীর ফোনে কল দেয় রুমানা। কিন্তু ফোনটা আমরা রিসিভ করতে পারিনি ঘুমে ছিলাম। তিনি বলেন, রাব্বি একটা হোন্ডা চেয়েছিল, কিন্তু রুমানা বাবার বাড়ি থেকে গরু নিয়ে দেওয়ার কথা বলেছে। এনিয়ে বেশ কিছুদিন বিবাদ চলছিল।

এছাড়া তিনি আরও বলেন, রুমানার শশুর বাড়ির লোকজন প্রথমে স্টক করে মারা গেছে বলে জানায়। পরে পুলিশ গিয়ে জানতে পারে গলায় ফাঁস দিয়েছে রুমানা। মৃতের বড় বোনের অভিযোগ, তার বোনের গলায় ফাঁস দেওয়ার কোন চিহ্ন দেখতে পাননি।

এমনকি ছোট যায়গায় ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দেওয়ার কোন সিমটম ছিলনা। এছাড়া রুমানার মৃত্যুর পর তার শাশুড়ী ছাড়া স্বামী সহ সবাই গা ঢাকা দিয়েছে। তাই মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে প্রশাসনের প্রতি জোর অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি ও তার পরিবার।

এবিষয়ে রুমানার শশুর বাড়ির লোকজনের সঙ্গে বার বার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

মহিপুর থানার ওসি মহব্বত খাঁন জানান, ঘটনা
সকালের কোন একসময় হলেও বিকাল তিনটর দিকে পুলিশ সুরতহাল শেষে মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করেছে। ময়না তদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে। প্রাথমিক পর্যায়ে একট ইউডি মামলা হয়েছে বলে জানান তিনি।