৪০ দিনের তদন্তে শনাক্ত মাথাবিহীন লাশ- পিবিআইয়ের জালে প্রেমিক লালন

অপহরণ মামলার সূত্র ধরে বটিয়াঘাটা উপজেলার ঝপঝপিয়া নদী থেকে উদ্ধারকৃত মাথাবিহীন অজ্ঞাতনারী লাশের পরিচয় শনাক্ত করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) খুলনা। একই সঙ্গে মামলার মূল আসামি লালন গাজীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দীর্ঘ ৪০ দিনের অনুসন্ধান ও দেশব্যাপী একাধিক জেলায় অভিযান চালিয়ে সুনামগঞ্জ থেকে তাকে গ্রেফতার করে পিবিআই।

গ্রেফতার আসামি লালন গাজী খুনের দায় স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে পিবিআই।

পিবিআই জানায়, নিহত সালেহা বেগম সৌদি আরবপ্রবাসী ছিলেন। দেশে ফেরার পর তার সঙ্গে একই গ্রামের যুবক লালন গাজীর ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে। পরে তারা দম্পতি পরিচয়ে পিরোজপুরের ইন্দুরকানী থানার চাড়াখালী এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন।

সেখানে বসবাসকালীন সময়ে লালন গাজী কৌশলে সালেহার ব্যাংক একাউন্ট থেকে ১৪ লাখ টাকা তুলে নেয়। টাকা ফেরত ও বিয়ে করার বিষয়ে চাপ দিলে পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয় লালন।

গত ১৯ আগস্ট সন্ধ্যার পর থেকে সালেহা বেগমের মোবাইল ফোন বন্ধ পায় পরিবারের সদস্যরা। ছেলে শামিম ফকির খুলনা পিবিআইকে বিষয়টি অবহিত করলে অপহরণ মামলা গ্রহণ করে তদন্ত শুরু করেন এসআই (নিঃ) রেজোয়ান।

তদন্তেই উঠে আসে- ঘটনার আগেরদিন লালন ও সালেহা একসঙ্গে খুলনায় যাচ্ছে বলে ভাড়া বাসা থেকে বের হয়। এরপরই তারা নিখোঁজ হন।

এর ঠিক পরদিন ২০ আগস্ট বটিয়াঘাটা উপজেলার ঝপঝপিয়া নদী থেকে মাথাবিহীন এক নারীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় সেটি বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে দাফন করা হয়।

পরে- পিবিআই সংগ্রহ করা লাশের স্থিরচিত্র, পরিধেয় বস্ত্র ও শারীরিক চিহ্ন। ভিকটিম পরিবারের কাছে উপস্থাপন করলে তারা লাশটি সালেহা বেগম বলে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করেন। এতে অপহরণ মামলা থেকে হত্যার ঘটনার সূত্র স্পষ্ট হতে থাকে।

অভিযোগের পর আসামি পলাতক হয়ে যায়। সে কোনো মোবাইল ব্যবহার করছিল না, পরিবারের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছিল না- ফলে তাকে খুঁজে বের করা ছিল চ্যালেঞ্জিং। পিবিআই খুলনার চৌকস টিম সাতক্ষীরা, পিরোজপুর, নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলায় অভিযান চালায়। অবশেষে ১৮ ডিসেম্বর রাতে সুনামগঞ্জের হালুয়ারঘাট খেয়াঘাট এলাকা থেকে লালন গাজীকে গ্রেফতার করা হয়।

স্বীকারোক্তি: হত্যা করে মাথা বিচ্ছিন্ন করে নদীতে ফেলে দেয়

রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে লালন গাজী জানায়— সালেহাকে খুলনায় বেড়াতে নেয়ার কথা বলে নিয়ে যায়, বটিয়াঘাটা খেয়াঘাট এলাকায় হত্যা করা হয়, হত্যার পর লাশ গুমে বাধা এড়াতে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় ও মাথাবিহীন দেহ নদীতে ফেলে দেয়া হয়।

পরবর্তীতে বটিয়াঘাটার গজালিয়া গ্রামে তার মামাতো ভাইয়ের বাড়িতে গর্তে পুঁতে রাখা— ভিকটিমের পোশাক ও ব্যক্তিগত সামগ্রী উদ্ধার করে পিবিআই।

পিবিআই খুলনা জেলা ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার রেশমা শারমিন, পিপিএম (সেবা) জানান— এটি পরিকল্পিত ও নির্মম হত্যাকাণ্ড। অর্থ আত্মসাৎ ও সম্পর্কের জটিলতা থেকেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। ঘটনায় জড়িত অজ্ঞাত সহযোগীদের শনাক্তে অভিযান চলছে।

গ্রেফতার লালন গাজীকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়। অজ্ঞাতনামা সহযোগীদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানায় পিবিআই খুলনা।