সাভারের আশুলিয়ায় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেক অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার কে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয়েছে বিতর্ক

গত ১৭জুন বুধবার দুপুরে আশুলিয়ার গনক বাড়ি শ্রীপুর এলাকায় অবস্থিত তাহফিজুল কুরআনিল কারিম ফাজিল মাদরাসায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাদরাসা প্রাঙ্গণে অভিযান চালায় র্যাব-৪ এর সিপিসি-২, নবীনগর ক্যাম্পের একটি টহল দল।
এসময় এসময় মাদ্রাসাটির অভিভাবকদের ওয়েটিং রুমের পাশে নির্মাণাধীন ও পরিত্যক্ত একটি ওয়াশরুমে তল্লাশি চালিয়ে কয়েকটি ইটের নিচে রাখা ছেঁড়া শপিং ব্যাগ থেকে একটি রিভলবার ও দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
এটনায় পরিকল্পিতভাবে অন্ত্র রেখে মাদরাসা কতৃপক্ষকে ফাঁসিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে বিতর্কিত করবার অপচেষ্টার অভিযোগ আশুলিয়ার শ্রীপুর গণকবাড়ী এলাকায় অবস্থিত তাহফিজুল কুরআনিল কারিম ফাজিল মাদরাসা কতৃপক্ষের।
তৎকালীন আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানকের ঘনিষ্ঠ সহযোগী মুকুলের নেতৃত্বে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র করে গোপনে প্রতিষ্ঠান প্রাঙ্গণে অস্ত্র রেখে গেছে। তবে র্যাবের অভিযানে সেই অস্ত্র উদ্ধার হওয়ায় ঘটনাটি সামনে এসেছে বলেও জানান কতৃপক্ষ।
মাদরাসার সিকিউরিটি ও ছাত্র রা জানা তাদের প্রতিষ্ঠানকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন ও বিতর্কিত করতে পরিকল্পিতভাবে অস্ত্রটি সেখানে রাখা হয়েছিল। তারা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি মহল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র চালিয়ে আসছে।
তবে অস্ত্র উদ্ধার হওয়ায় ঘটনাটি সামনে এসেছে।
তাহফিজুল কুরআনিল কারিম ফাজিল মাদরাসার সহকারী পরিচালক, সৈয়দ আলী সানজিদ, জানান,
উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের সঙ্গে তাদের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই। বরং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির সুনাম ক্ষুণ্ন করতেই পরিকল্পিতভাবে অস্ত্রটি সেখানে রাখা হয়েছে।
পরিত্যক্ত মহিলা টয়লেটে গোপনে অস্ত্র রেখে আমাদের ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছে। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে শাস্তি ও ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির নিরাপত্তা নিশ্চিত এ অফিস থেকেও আহবান জানান তিনি।
এঘটনার পর মাদরাসার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ঘটনার দিন সকালে একটি ভ্যান প্রবেশের কিছুক্ষণ পর মোটরসাইকেলে করে এক ব্যক্তি মাদরাসায় প্রবেশ করেন। পরে তিনি নির্মাণাধীন ওই কক্ষের সামনে গিয়ে চারপাশে তাকিয়ে ভেতরে প্রবেশ করেন এবং কিছুক্ষণ পর সেখান থেকে বেরিয়ে চলে যেতে দেখা যায়।
র্যাব-৪ সিপিসি-২ কোম্পানি কমান্ডার মেজর আরমান হোসেন হৃদয় জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি রিভলবার ও দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। অস্ত্রের উৎস এবং কারা এটি সেখানে রেখে গেছে তা উদঘাটনে আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও গুলি পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য আশুলিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
এবিষয়ে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি তরিকুল.ইসলাম বলেন মাদ্রাসসা প্রাঙ্গণ থেকে উদ্ধার হওয়া একটি রিভলবার ও দুই রাউন্ড গুলি র্যাব আমাদের কাছে হস্তান্তর করেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভেতরে অস্ত্র উদ্ধার হবার ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়েছেনশিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা।
মাদরাসা কর্তৃপক্ষ ও অভিভাবকরা দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনার রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছন।
উল্লেখ্য যে এর আগে গত ৯ মে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে এ হামলা ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটে।






























