রাঙামাটিতে বন্যার পানি নেমে যাওয়ায় ফুটে উঠেছে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র

রাঙামাটিতে গত দুইদিন বৃষ্টিপাত কিছুটা কম হাওয়ায় ধীরে ধীরে বন্যা পরিস্থিতি উন্নতি হচ্ছে। বাঘাইছড়ি উপজেলার গ্রাম এবং বিলাইছড়ির ফারুয়া বাজারে পানি নেমে যাওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির চিত্র ফুটে উঠেছে। ক্ষতিগ্রস্তরা জীবন বাঁচাতে লড়াই করছেন। যদিও প্লাবিত এলাকাগুলো থেকে পানি কমতে শুরু করেছে, পরিস্থিতি এখনও নাজুক।

বাঘাইছড়ি থেকে বহু মানুষ বাড়ি ফিরতে শুরু করলেও জীবনযাত্রা স্বাভাবিক হয়নি। এই মানুষগুলো খাবার ও বিশুদ্ধ পানি ছাড়া দিন কাটাচ্ছেন। এখানকার অনেক জায়গায় সরকারি ত্রাণ না পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। পশ্চিম লাইলাংঘোনা ইউনিয়নে এখনও ১৫০ টিরও বেশি পরিবার পানিতে আটকা পড়ে আছে।

বাঘাইছড়ি ও খাগড়াছড়ির মধ্যে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ থাকায় পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্থানীয়রা খাদ্য সংকটের আশঙ্কা করছেন। অন্যদিকে, বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়া ইউনিয়নে পানি পুরোপুরি নেমে গেছে। সেখানকার বেশ কয়েকটি বাড়ি সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে। তারা দুর্বিষহ জীবনযাপন করছেন।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেন এমপি রাঙ্গামাটির সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি পরিদর্শন করেছেন। শনিবার (১২ জুলাই) তিনি শহরের বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। রবিবার (১৩ জুলাই) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত রাঙ্গামাটির ভূমিধস-কবলিত এলাকা ও আশ্রয়কেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করেন।

অপরদিকে, স্থানীয় প্রশানের সাথে দুর্গম এলাকায় ত্রাণ সহায়তায় কাজ করছে সেনাবাহিনী ও বিজিবি। রেড ক্রিসেন্ট সহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ত্রাণ সহায়তা দিচ্ছে।

জেলা প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে, অশ্রয়কেন্দ্রে থাকা মানুষের মাঝে তিন বেলা খাবার দেয়া হচ্ছে। এছাড়া টানা বর্ষণে এ পর্যন্ত জেলায় ১৩১ স্থানে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে।

এদিকে টানা বর্ষণে কাপ্তাই হ্রদে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় পাঁচ ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন বেড়েছে ২০৬ মেগাওয়াট।