খাগড়াছড়িতে টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ধস আশংকা ও জলাবদ্ধতা, জনজীবনে স্থবিরতা

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার ৯টি উপজেলা তে টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ধস আশংকা ও জলাবদ্ধতা: জনজীবনে স্থবিরতা, ভোগান্তিতে পড়েছে নিচু এলাকার বসবাসকারী মানুষজন। মংগলবার (৭ই জুলাই) পর্যন্ত টানা বৃষ্টি ও ভারী বর্ষণের ফলে পার্বত্য খাগড়াছড়ি জেলায় একাধিক স্থানে পাহাড় ধস আশংকা ও জলাবদ্ধতার ঘটনা ঘটেছে।
এতে জেলার বিভিন্ন উপজেলার সড়ক যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। পাহাড় ধস ও পাহাড়ি ঢলে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে, ফলে জনজীবনে চরম দুর্ভোগ নেমে এসেছে।
টানা বৃষ্টি তিনদিন ধরে টানা বৈরী আবহাওয়া। গত রোববার(৫ই জুলাই) সকাল থেকে থেমে থেমে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি পড়ছে। বাড়ছে নদী, ছড়া ও খালের পানি। এতে জেলার বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। সড়ক ও বাসাবাড়িতে পানি ঢুকেছে। ভোগান্তিতে পড়েছে নিচু এলাকার বসবাসকারী গরীব-অসহায় মানুষজন।
জেলা সদরের মুসলিমপাড়ার নিচু এলাকা, উত্তর গঞ্জপাড়া, মেহেদী বাগের একাংশ, পৌরসভার রাজ্যমনি পাড়া, কালাডেবা, বটতলি, ফুটবিল এবং গুগড়াছড়ি, মহালছড়ি উপজেলার মাইসছড়ি বাজারের সড়ক তলিয়ে গেছে। বিঘ্নিত হচ্ছে আন্ত: সড়ক চলাচল।
টানা বৃষ্টিতে বিভিন্ন স্থানে ছোটখাটো পাহাড় ধসে আশঙ্কা বাড়ছে। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে প্রশাসনের তৎপরতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, বৈরী আবহাওয়া ও বৃষ্টির কারণে পানিবন্দি ও জলাবদ্ধতায় থাকা পরিবারগুলোর জন্য আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে থাকা শতাধিক ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারের তালিকা করে তাদের সরিয়ে নেওয়ার কাজ করা হচ্ছে।
মহালছড়ির ধুমনীঘাট-গুইমারার পুঙ্খীমূড়া এলাকায় পাহাড় ধসের আশংকায় মহালছড়ি থেকে গুইমারা ও জালিয়াপাড়া সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ ঝুকি হয়ে পড়ে। একই দিন খাগড়াছড়ি সদরের রাজশাহী টিলা এলাকায় ধসের আশংকা কমলছড়ি ইউনিয়নের ভূয়াছড়িসহ আশেপাশের কয়েকটি এলাকার যোগাযোগ ব্যাহত হয়।
পাহাড় ধসের আশংকা পাশাপাশি, দীঘিনালা উপজেলার মেরুং ইউনিয়নের ১৫টি গ্রাম পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত হয়েছে। দীঘিনালা-লংগদু আঞ্চলিক সড়কের ইয়ারংছড়ি এলাকায় ধসের আশংকা সড়ক চলাচল বিঘœ রয়েছে এবং নিচু স্থানে পানি উঠে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছে।
গুইমারা উপজেলার জালিয়াপাড়া নিচের বাজারে ছড়ার পানি বৃদ্ধি পেয়ে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। জেলা সদরসহ শালবন, ভুয়াছড়ি, গুগড়াছড়ি এলাকায়ও আংশিক পাহাড় ধসের খবর পাওয়া গেছে। তবে এ পর্যন্ত কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক আনোয়ার সাদাত বলেন, আপাতত সব ধরনের সচেতনতামূলক ও দুর্যোগ মোকাবিলার কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। আজকের দিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাসের ওপর নির্ভর করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এ মুহূর্তে তেমন একটা পাহাড় ধসের শঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।
“সেনাবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা পাহাড় ধসের আশংকা সড়ক সচল রাখতে প্রস্তুুত রয়েছে। জেলা প্রশাসনের একাধিক টিম পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রয়েছে।”
তিনি আরও জানান, পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসরত পরিবারগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। ইতোমধ্যে জেলা শহরের শালবনসহ বিভিন্ন এলাকায় ২৭টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে এবং সেখানে অবস্থানরতদের জন্য দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
অন্যদিকে, টানা বর্ষণে খাগড়াছড়ি চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচার কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে। আদালতের ভবনে অনবরত পানি পড়ায় বিচারক, আইনজীবী ও বিচার প্রার্থীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এমনকি আদালতের বিদ্যুৎ মিটারের ভেতরেও পানি ঢুকে পড়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, “বন্যা ও পাহাড়ধস মোকাবিলায় প্রশাসনের প্রস্তুুতি রয়েছে।
ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় খাদ্য সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।”
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাহাড় কাটা ও অপরিকল্পিত বসতির কারণে এমন দুর্যোগের ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে। স্থানীয়দের মধ্যে সচেতনতা এবং পূর্বপ্রস্তুুতি না থাকলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন তাঁরা।






























