খাগড়াছড়িতে টানা বর্ষণে জনজীবন বিপর্যস্ত, পাহাড় ধসের আশংকা

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার কোনো সা¤প্রতিক অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে সরকার। ক্ষতিগ্রস্ত প্রত্যেক পরিবারকে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা হবে বলেছেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম. ইকবাল হোসেইন এমপি।

শনিবার (১১ই জুলাই) বিকেলে খাগড়াছড়িতে এসে প্রতিমন্ত্রী জেলা সদরের ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন। ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারদের কথা বলেন এবং ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের মাঝে মানবিক সহায়তা ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন।

জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে সদরের উত্তরগঞ্জপাড়া, মেহেদীবাগ, নিচের বাজারসহ বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল পরিদর্শন করেন দূর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী।

এ সময় জেলা প্রশাসক আনোয়ার সাদাত, পুলিশ সুপার মোরতজা আলী খাঁন, পৌর প্রশাসক রুমানা আক্তার, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম. এন. আফসারসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ।

এদিকে টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলায় সৃষ্টি হওয়া জলাবদ্ধতা এবং জনজীবনে দুর্ভোগের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, এমপি।

মঙ্গলবার রাতে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি চট্টগ্রাম বিভাগের স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল(বিএনপি) ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী, জনপ্রতিনিধি এবং স্থানীয় তরুণদের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সমন্বিতভাবে ত্রাণ ও সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনার আহŸান জানান।

ভিডিও বার্তায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর রাখছেন এবং সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি দুর্যোগকবলিত মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি খাদ্য, বস্ত্র ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহŸান জানান। একই সঙ্গে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসীকে ধৈর্য ধারণের অনুরোধ করেন।

এদিকে কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে চট্টগ্রাম ও পার্বত্যাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা ও যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রামে বিমান ও ট্রেন চলাচলেও প্রভাব পড়েছে। রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির বিভিন্ন সড়কে পানি জমে যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে। পরিস্থিতির কারণে শুক্রবার পর্যন্ত বান্দরবানের সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন।

পাহাড় ধসের উচ্চঝুঁকিতে মানুষ টানা ছয়দিন অতি বর্ষণে ৯াট উপজেলাতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। টানা বর্ষণে খাগড়াছড়ির নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, টানা বৃষ্টিতে জেলাতে জনজীবন বিপর্যস্ত, বিভিন্ন সড়ক তলিয়ে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। ৯টি উপজেলাতে টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ধস আশংকা ও জলাবদ্ধতা: জনজীবনে স্থবিরতা, ভোগান্তিতে পড়েছে নিচু এলাকার বসবাসকারী মানুষজন।

গত রোববার(৫ই জুলাই) থেকে ভারী বৃষ্টি শুরু হওয়া শুক্রবার(১০ই জুলাই) পর্যন্ত টানা বৃষ্টি ও ভারী বর্ষণের ফলে পার্বত্য খাগড়াছড়ি জেলায় একাধিক স্থানে পাহাড় ধস আশংকা ও জলাবদ্ধতার ঘটনা ঘটেছে।

এতে জেলার বিভিন্ন উপজেলার সড়ক যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। পাহাড় ধস ও পাহাড়ি ঢলে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে, ফলে জনজীবনে চরম দুর্ভোগ নেমে এসেছে। টানা ভারী বৃষ্টিপাতে চেঙ্গী নদীর পানি বৃদ্ধি হওয়ায় খাগড়াছড়ি জেলার মহালছড়িতে অতি ভারী বর্ষণের ফলে উপজেলা সদর থেকে মুবাছড়ি ইউনিয়নের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন এবং সমতল এলাকাগুলো বন্যায় প্লাাবিত হয়েছে।

গত শুক্রবার (১০ই জুলাই) মহালছড়ি উপজেলা সদর থেকে অত্র ইউনিয়নে যাতায়াতের একমাত্র সড়কটি ডুবে যাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছে মুবাছড়ি ইউনিয়নের হাজারো মানুষ। এছাড়াও অসুস্হ রোগী, স্কুল/কলেজের ছাত্র-ছাত্রী,সরকারি -বেসরকারি বিভিন্ন অধিদপ্তরে কর্মকর্তা কর্মচারীরা মহা বিপাকে পড়েছে।

মহালছড়ি উপজেলা থেকে মুবাছড়ি যাওয়ার পথে কাপ্তাই পাড়া নামক স্থানে গত বর্ষা মৌসুমে একটি ব্রিজ ভেঙ্গে যায়। পরবর্তীতে এলজিইডি থেকে ব্রিজ টেন্ডার হয়, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান শুকনো মৌসুমে ব্রিজের কাজটি ধরলেও কাজের ধীরগতি কারণে কাজটি অসম্পূর্ণ থেকে যায়। ফলে এ বর্ষা মৌসুমে কাপ্তাই লেগের পানি জলাবদ্ধতা হয়ে অত্র ইউনিয়নের হাজারো মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়তে হল।

এলাকাবাসীর দাবি দ্রæুত যাহাতে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজটি সম্পন্ন করে এ বিষয়ে এলজিডির উপজেলা প্রকৌশলীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমরা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দ্রæুত কাজ শেষ করার জন্য বলা হয়েছে।

পাহাড় ধসের অতি ঝুঁকিতে শত শত পরিবার:-
টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে খাগড়াছড়ির বিভিন্ন এলাকা নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। গত রোববার(৫ই জুলাই) রাত থেকে জেলা সদরসহ বিভিন্ন উপজেলায় শুরু হওয়া ভারী বৃষ্টিপাত শুক্রবার পর্যন্তও অব্যাহত রয়েছে। টানা বর্ষণে চেঙ্গী ও মাইনী নদীসহ বিভিন্ন খাল-ছড়ার পানি অস্বাভাবিক ভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে।

মঙ্গলবার দুপুর থেকে খাগড়াছড়ি সদর, মহালছড়ি, মাটিরাঙ্গা, গুইমারা, মানিকছড়ি, পানছড়ি, লা²ীছড়ি, মানিকছড়ি, রামগড় ও দীঘিনালা উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করতে শুরু করে। পাহাড়ি ঢল ও নদ-নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে ইতোমধ্যে বহু ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে গেছে।

তবে এখন পর্যন্ত জেলার কোথাও পাহাড় ধস বা প্রাণহানির কোনো ঘটনা ঘটেনি।

বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় ভারী বর্ষনে আশঙ্কা আরও বেড়ে যাওয়ায় দীঘিনালা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের বেলুন মেকার সুভূতি চাকমা জানান, মঙ্গলবার বেলা ১টা পর্যন্ত আগের ১৮ঘণ্টায় দীঘিনালায় ৯০মিলিমিটার থেকে ১১৫মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

ভারী বর্ষণের কারণে খাগড়াছড়ি জেলা শহরের কলাবাগান, গুগড়াছড়ি, নুনছড়ি বাজার, মোল্লাপাড়া, কৈবল্যপীঠ, আঠারো পরিবার, রাজ্যমনি পাড়া, কালাডেবা, বটতলী, শালবন ও মোহাম্মদপুর এলাকা এবং দীঘিনালা উপজেলার কবাখালী ও মেরুং এলাকার নিচু অংশ প্লাবিত হয়েছে। একই সঙ্গে মাইসছড়ি, মহালছড়ি, মাটিরাঙ্গা, গুইমারা ও মানিকছড়িসহ জেলার বিভিন্ন দুর্গম এলাকা এবং পাহাড়ের ঢালে বসবাসরত শত শত পরিবার চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, টানা বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে যেকোনো সময় পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটতে পারে।

দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন ব্যাপক প্রস্তুুতি গ্রহণ করেছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করতে খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক আনোয়ার সাদাত এক জরুরি বার্তায় জানান, টানা বর্ষণের কারণে পাহাড়ের পাদদেশ ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসকারী মানুষের জানমালের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোকে দ্রæত নিকটস্থ নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্রে সরে যাওয়ার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, জেলা সদরসহ প্রতিটি উপজেলায় পর্যাপ্ত আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুুত রাখা হয়েছে। আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানীয় জল ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবার ব্যবস্থা করা হয়েছে। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের(ইউএনও) পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সতর্ক অবস্থানে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফায়ার সার্ভিস ও স্বেচ্ছাসেবক দলও সার্বক্ষণিক প্রস্তুুত রয়েছে।

টানা বৃষ্টিতে খাগড়াছড়িতে জনজীবন অতি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পাহাড়ি ঢল ও নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় জেলার একাধিক সড়ক পানির নিচে তলিয়ে গেছে। সরাসরি যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে দীঘিনালা-লংগদু, দীঘিনালা-সাজেক ও খাগড়াছড়ি-রাঙ্গামাটি সড়কে। বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দেওয়ার পাশাপাশি পাহাড়ধসের ঝুঁকিও বেড়েছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন ১৩৫টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুুত রেখেছে।

টানা ছয়দিনের ভারী বর্ষণ ও বৈরী আবহাওয়ায় কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ির স্বাভাবিক জনজীবন। রোববার(৫ জুলাই) সকাল থেকে শুরু হওয়া শুক্রবার(১০ই জুলাই) পর্যন্ত মুষলধারে বৃষ্টি দিনভর অব্যাহত থাকায় চেঙ্গী নদীসহ জেলার বিভিন্ন ছড়া-খালের পানি আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে নিম্নাঞ্চলের সড়ক, বসতবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়েছে। জেলার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হওয়ায় শতাধিক পরিবার পানিবন্দী হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

জেলা সদরের মুসলিমপাড়া, আরামবাগ, মেহেদীবাগ উত্তর গঞ্জপাড়া, পৌরসভার রাজ্যমনি পাড়া, কালাডেবা, বটতলি, ফুটবিল এবং গুগড়াছড়ি, মহালছড়ি উপজেলার মাইসছড়ি বাজারের সড়ক বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গেছে। বিঘিœত হচ্ছে আন্ত: সড়ক চলাচল।

জেলা শহরের কলাবাগান, নান্সীবাজার, মোল্লাপাড়া, কৈবল্যপিঠ, আঠারো পরিবার, শালবন ও মোহাম্মদপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ের ঢালে বসবাসকারী শত শত পরিবার এখন ঝুঁকিতে রয়েছে।
অবিরাম বৃষ্টির কারণে জেলার বিভিন্ন উপজেলা এবং সদর উপজেলার মধ্য শালবন, সবুজবাগ, শালবনসহ কয়েকটি এলাকায় বিক্ষিপ্তভাবে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। জেলা সদরসহ শালবন, ভুয়াছড়ি, গুগড়াছড়ি এলাকায়ও আংশিক পাহাড় ধসের খবর পাওয়া গেছে।

প্রশাসন এসব এলাকার বাসিন্দাদের পাহাড়ের পাদদেশ ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার আহŸান জানিয়েছে। তবে এ পর্যন্ত কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। এখন পর্যন্ত বড় ধরনের প্রাণহানি বা ক্ষয়ক্ষতির খবর না মিললেও টানা বর্ষণ অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

অনেক এলাকায় হাঁটুসমান পানি জমে যাওয়ায় যানবাহন ও মানুষের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। অসংখ্য পরিবার ঘরবন্দি হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে রয়েছেন শিশু, নারী, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিরা।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, রোববার থেকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টিতে দীঘিনালা-লংগদু সড়কের বিভিন্ন অংশ পানি উঠেছে। স্টিল ব্রিজ, বড় মেরুং, আটারকছড়া ও তেঁতুলতলা এলাকায় সড়কে পানি উঠেছে। ফলে সোমবার বিকেল থেকে দীঘিনালা-লংগদু সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। বুধবার(৮ই জুলাই) সকালে দীঘিনালা-সাজেক সড়কের কবাখালী অংশেও পানি উঠে যাওয়ায় যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। কোথাও কোথাও যাত্রীদের নৌকা দিয়ে সড়ক পার হতে দেখা গেছে।

গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে খাগড়াছড়ি-রাঙ্গামাটি সড়কের মহালছড়ি উপজেলার চব্বিশ মাইল, মাইসছড়ি ও কেরেঙ্গেনালা এলাকায় সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় ওই সড়কেও সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। মাইসছড়ি এলাকায় হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে আছে। এই পানি দিয়েই সাধারণ যাত্রী ও শিক্ষার্থীদের চলাচল করতে হচ্ছে। সেচের নালার ¯øুইসগেট বন্ধ থাকায় বৃষ্টির পানি দ্রæুত নামতে না পারায় পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে।

বৃষ্টিতে জেলার চেঙ্গী ও মাইনী নদীসহ বিভিন্ন খাল-ছড়ার পানি দ্রæুত বাড়ছে। জেলা সদর, মহালছড়ি ও দীঘিনালার বিভিন্ন নিচু এলাকায় এরইমধ্যে পানি ঢুকতে শুরু করেছে। অনেক পরিবারকে গবাদিপশু নিয়ে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে দেখা গেছে।

খাগড়াছড়ির অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(সার্বিক) হাসান মারুফ বলেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুুতি নেওয়া হয়েছে। পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে থাকা এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে মাইকিং করা হচ্ছে এবং পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো: আনোয়ার সাদাত বলেন, জেলা প্রশাসন পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী পরিবারগুলোকে দ্রæুত নিরাপদ স্থানে সরে যেতে অনুরোধ করেছেন। যেকোনো ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশাসনের সার্বিক প্রস্তুুতি রয়েছে। শুষ্ক খাবার এবং পর্যাপ্ত সুপেয় পানি রাখা হয়েছে। তা ছাড়া বন্যা হওয়ার আশঙ্কা এমন এলাকাগুলোতে আশপাশের স্কুলগুলো আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে তৈরি রাখা হয়েছে।

পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। “সেনাবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা পাহাড় ধসের আশংকা সড়ক সচল রাখতে প্রস্তুুত রয়েছে। জেলা প্রশাসনের একাধিক টিম পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রয়েছে।” তিনি আরও জানান, জেলার বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় মোট ১৩৫টি আ¤্রয়কেন্দ্র প্রস্তুুত রাখা হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্র গুলোতে শুকনো খাবারসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুুতি রয়েছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন হলে আরও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পরিবেশবাদী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাহাড় কাটা ও অপরিকল্পিত বসতির কারণে এমন দুর্যোগের ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে। স্থানীয়দের মধ্যে সচেতনতা এবং পূর্বপ্রস্তুুতি না থাকলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন তাঁরা।

খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মো: আনোয়ার সাদাত আরো বলেন, আপাতত সব ধরনের সচেতনতামূলক ও দুর্যোগ মোকাবিলার কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। আজকের দিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাসের ওপর নির্ভর করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এ মুহূর্তে তেমন একটা পাহাড় ধসের শঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।