টুরিজম স্পর্ট সাজেকের পঞ্চম দিনেও সড়কে অবরোধ, খাদ্য সংকটে কয়েকটি গ্রাম

টুরিজম স্পর্ট পঞ্চম দিনেও সাজেক সড়কে অবরোধ, খাদ্য সংকটে কয়েকটি গ্রাম। পাঁচ দফা দাবিতে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক সড়কে ডাকা অনির্দিষ্টকালের অবরোধ পঞ্চম দিনের মতো অব্যাহত রয়েছে। অবরোধের কারণে বন্ধ রয়েছে সব ধরনের যান চলাচল। এতে সাজেকে পর্যটকদের প্রবেশ বন্ধ থাকায় স্থবির হয়ে পড়েছে পর্যটন কার্যক্রম।
পাশাপাশি সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় সাজেক ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে দেখা দিয়েছে তীব্র খাদ্যসংকট।
সোমবার (২৬শে অক্টোবর) সকাল থেকে সড়কে আন্দোলনকারীদের তেমন কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি। নতুন করে সহিংসতার খবরও পাওয়া যায়নি। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নজরদারি জোরদার করেছে প্রশাসন।
এদিকে, সাজেকের চলমান সংকট নিরসনে সোমবার উচ্চপর্যায়ের একটি সরকারি প্রতিনিধি দলটির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। প্রতিনিধি দলে রয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়া, রাঙামাটির ২৯৯নং আসনে সংসদ সদস্য-পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রানালয়ের সাবেক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান, জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী, পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিবসহ স্থানীয় হেডম্যান ও কার্বারীরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আলোচনার মাধ্যমে অবরোধ প্রত্যাহার, যান চলাচল স্বাভাবিক করা এবং পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করা হবে। এরই মধ্যে বাঘাইছড়ি উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রথাগত দায়িত্ব পালনকারী হেডম্যান ও কার্বারীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় চলমান সংকট নিরসনের উপায় নিয়ে আলোচনা করেন সংশ্লিষ্টরা।
অন্যদিকে, সাজেকে শান্তিপূর্ণ অবরোধে হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে ২১জন কার্বারী, হেডম্যান ও জনপ্রতিনিধি। তাঁরা হামলায় ক্ষতিগ্রস্তদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের দাবি জানিয়েছেন। শান্তিপূর্ণ অবরোধে হামলার প্রতিবাদে এবং সন্তু গ্রæুপের সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়াসহ ৫দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারী এসোসিয়েশনের নেতা-কর্মী, সমর্থক ও এলাকাবাসী।
সোমবার(২৬শে অক্টোবর ২০২৬) বেলা ২টার সময় সাজেকের উজোবাজারে তারা এ সমাবেশ করেন। এ সময় তারা “সাজেকবাসীর ৫দফা মেনে নাও; সন্তু গ্রæুপের সশস্ত্র দলকে সরিয়ে নাও; হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা তুলে নাও; অবিলম্বে সেনা সন্ত্রাস বন্ধ কর; সাজেকবাসীর ওপর হামলা কেন, সরকারের জবাব চাই; সন্তু সন্ত্রাস, সেনা সন্ত্রাস বন্ধ কর; সন্তু গ্রæুপের সন্ত্রাসীদের মদতদান বন্ধ কর” ইত্যাদি দাবি ও শ্লোগান সম্বলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন।
এর আগে গত রোববার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক সভায় সাজেক সংকট সমাধানে হেডম্যানদের প্রতিনিধিদের নিয়ে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।
এ বিষয়ে বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) আমেনা মারজানা জানান, হেডম্যান ও কার্বারীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় চলমান আন্দোলন সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়েছে। সরকারি সুবিধাভোগী কোনো হেডম্যান বা কার্বারী আন্দোলনে যুক্ত রয়েছেন কি না, সে বিষয়েও তাঁদের কাছে জানতে চাওয়া হয়। জবাবে তাঁরা জানিয়েছেন, আন্দোলনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের কেউ সরকারি সুবিধাভোগী নন।
টানা অবরোধের কারণে সাজেকের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি পর্যটকেরাও ভোগান্তিতে পড়েছেন। দ্রæুত সংকট নিরসন করে যান চলাচল স্বাভাবিক করা এবং স্থানীয়দের খাদ্যসংকট মোকাবিলায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দিকে তাকিয়ে রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
উল্লেখ্য, সাজেকে উদ্ভুত পরিস্থিতি নিরসনে সোমবার আন্দোলনকারীদের সাথে রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির দু’জন এমপি ও দুই জেলার জেলা প্রশাসকদের সমন্বয়ে সরকারের একটি প্রতিনিধি দল বৈঠক করছেন। এই বৈঠকের প্রাক্কালে সরকারি প্রতিনিধি দলের সম্মুখে এলাকার জনগণ উক্ত প্রতিবাদ সমাবেশ করে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনের মাধ্যমে সরকারের কাছে তাদের দাবি-দাওয়া তুলে ধরেছেন।
সাজেকের উজোবাজারে হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ, পর্যটন সড়কে অবরোধ অব্যাহত রয়েছে। পার্বত্য জেলার রাঙামাটির সাজেকের উজোবাজারে শান্তিপূর্ণ অবরোধ পালনকালে সেনা হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি। অপরদিকে, সাজেক পর্যটন সড়কে অবরোধ অব্যাহত রাখা হয়েছে।
গত শনিবার (২৪শে অক্টোবর) সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটির আহŸায়ক বাবুধন চাকমা ও সাজেক কার্বারী এসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা সংবাদ মাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে ২২শে অক্টোবর শান্তিপূর্ণ অবরোধকারীদের উপর হামলার প্রেক্ষিতে জনগণের পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেন।
দাবিগুলো হলো: ১) গত ২২শে অক্টোবর ২০২৬ শান্তিপূর্ণ অবরোধকারীদের উপর বিনা উস্কানিতে হামলার সাথে জড়িতদের শাস্তি দিতে হবে এবং গোলাগুলির মিথ্যা নাটক সাজিয়ে ৩০জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ১০০০জনের নামে দায়ের করা মামলা সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করতে হবে। ঘটনার নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্ত করতে হবে।
২) উজো বাজারের স্থানীয় দোকান ব্যবসায়ীদের দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাটের কারণে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তার যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। উজোবাজার থেকে সেনা ও পুলিশ বাহিনীর সদস্যদেরকে সরিয়ে নিতে হবে।
৩) সেনাবাহিনী কর্তৃক যে সকল নারী-পুরুষকে মারধর করে আহত করা হয়েছে তাদের সম্পূর্ণ চিকিৎসা ভার গ্রহণ করতে হবে।
৪) সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় পিসিজেএসএস সন্তু লারমা গ্রæুপের সশস্ত্র সদস্যদেরকে সাজেক থেকে অতি দ্রæুত সরিয়ে নিতে হবে। তাদের সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও জুলুম বন্ধ করতে হবে।
৫) আন্দোলনরত নেতাকর্মীদের কাউকে সন্ত্রাসী তকমা লাগিয়ে গ্রেফতার, হয়রানি ও তাদের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে তল্লাশি করা যাবে না।
রাঙামাটি জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার আব্দুর রকিব ঘটনার গত বুহষ্পতিবার দুপুরে বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি জানান, অবরোধকারীদের হামলায় সেনাবাহিনীর তিন থেকে চারজন এবং পুলিশের দুই সদস্য জখম হয়েছেন। প্রায় দুই ঘণ্টার এই রক্তক্ষয়ী পরিস্থিতির পর নিরাপত্তা বাহিনী পুরো এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেয়।
সাজেকে আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার সময় অবরোধকারীদের হামলায় সেনাবাহিনী ও পুলিশের অন্তত ছয় সদস্য আহত হয়েছেন। সাজেক থেকে পর্যটকদের গাড়িবহর ছেড়ে যাচ্ছে এমন সময় সাজেকে অবরোধকারীদের হামলায় সেনা-পুলিশসহ ৬জন আহত হয়েছে। রাঙামাটির সাজেক সড়কের উজোবাজারে গত বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
পর্যটকবাহী যানবাহন পার করে দেওয়ার জন্য সড়কের ব্যারিকেড সরানোর আহŸান জানালে অবরোধকারীরা নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে প্রথমে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। একপর্যায়ে অবরোধকারীরা গুলিবর্ষণ শুরু করলে আত্মরক্ষার্থে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাও পাল্টা গুলি চালান। এতে দুপুর একটা পর্যন্ত টানা দুই ঘণ্টা উভয় পক্ষের মধ্যে থেমে থেমে ব্যাপক গুলিবিনিময় চলে।
পুলিশ সুপার আরও জানান, সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরি হলেও সাজেকে অবস্থানরত সব পর্যটককে নিরাপদে উদ্ধার করে খাগড়াছড়ির উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়েছে। তারা ইতোমধ্যে দিঘীনালার কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর এই সশস্ত্র হামলার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পার্বত্য রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী বলেন, ‘উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার(ইউএনও) সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছি, সাজেকে গতকাল যে রকম ঘটনা ঘটেছিল, রাঙামাটি সে রকম পরিস্থিতি নেই। স্বাভাবিক সাধারন মানুষ চলাচল করছে। আমরা এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি।’
রাঙামাটির পার্বত্য জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী বলেন, ‘উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার(ইউএনও) সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছি, সাজেকে গতকাল যে রকম ঘটনা ঘটেছিল, রাঙামাটি সে রকম পরিস্থিতি নেই। স্বাভাবিক সাধারন মানুষ চলাচল করছে। আমরা এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি।’
রাংগামাটির ২৯৯নং আসনে সংসদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের সাবেক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান এমপি বলেন, অবগত হয়েছি, আমলা চাচ্ছি যে, আলোচনার মাধ্যমে সমাধান সম্ভব। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখলাম তারা ৫দফা দাবী দিয়েছে। আমরা তাদের সাথে বসব। এটি দৃশ্যমান না, ওদের সাথে বসতে চায়, আমরা সরকারের আলোচনা বিশ^াসী। আমরা আশা করছি, অচিরেই তা সমাধান হবে।
গত ১১ই অক্টোবর অবরোধ পালনকালে বিকেলে স্থানীয় সামরিক-বেসামরিক প্রশাসন দুই সংগঠন ও সাজেকবাসীর উত্থাপিত তিন দফা দাবি বা শর্ত মেনে নিলে ৪৮ঘন্টার জন্য সড়ক অবরোধ স্থগিত করা হয়। এরপর শর্ত পূরণ না হওয়ায় ১৫ই অক্টোবর আবার তারা অবরোধ পালন করে। পরে শারদীয় দুর্গোৎসবের কারণে ১৬থেকে ২১শে অক্টেবর অবরোধ কর্মসূচি স্থগিত করা হয়।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার(২২শে অক্টোবর) সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশনের ডাকে সাজেক পর্যটন সড়কে অবরোধ চলাকালে সেনাবাহিনী হামলা, লাঠিপেটা এবং ঘরবাড়ি ও দোকানপাট ভাঙচুরের প্রতিবাদে এবং সাজেকবাসীর ন্যায্য দাবির সমর্থনে ওই দিনই ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদ রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলায় এই আধাবেলা সড়ক ও নৌপথ অবরোধের ডাক দেয়।
গত ২২শে অক্টোবর রাঙামাটির সাজেকে পিসিজেএসএস সন্তু গ্রæুপের সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়াসহ ৩দফা বাস্তবায়নের দাবিতে সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাাজেক কার্বারী এসোসিয়েশনের তৃতীয় দফা শান্তিপূর্ণ অবরোধ পালনকালে সেনাবাহিনী হামলা চালায়।
এ সময় তারা বেপরোয়া লাঠিচার্জ, গুলিবর্ষণ ও ঘরবাড়ি ভাংচুর করে। এতে ৭০জনের অধিক নারী-পুরুষ আহত হন। এর আগে, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে ছাত্র জনতার সংগ্রাম পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক নির্মল চাকমার সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি মাধ্যমে শনিবার রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলায় আধাবেলা সড়ক ও নৌপথে অবরোধের ডাক দেয়া হয়।
উল্লেখ্য, শনিবার রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলায় সকাল ৫টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ সড়ক ও নৌপথ অবরোধ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছিল ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদ। গত বৃহষ্পতিবার সংবাদ মাধ্যমে দেওয়া এক বিবতিতে সংগঠনটি এই অবরোধ কর্মসূচির ঘোষণা দেয়। এর আগে সাজেকে গুলাগুলির ঘটনার পর রাঙামাটির সাজেকে সড়ক অবরোধকারীদের ওপর হামলা, লাঠিচার্জ এবং ঘরবাড়ি ও দোকানপাট ভাঙচুরের অভিযোগ শনিবার-২৪শে অক্টোবর থেকে আবার চতুর্থ দফায় অর্ধদিবস সড়ক ও নৌপথ অবরোধের ঘোষণা, পর্যটকদের চলে আসার অনুরোধ করেছিল।
গত বৃহস্পতিবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য অবরোধ শুরু হলে পিকেটার ও নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে সঘর্ষের জাড়িয়ে পড়ে। তাই শুক্রবারের মধ্যে সাজেক থেকে সব পর্যটককে চলে আসার অনুরোধ জানিয়েছেন তাঁরা। এতে শনিবার(২৪শে অক্টোবর) রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি ২টি জেলায় অর্ধদিবস সড়ক ও নৌপথ অবরোধের ডাক দিয়েছে ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদ।
গত বৃহস্পতিবার(২২শে অক্টোবর) বিকেলে সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠনটি এ কর্মসূচি ঘোষণা করে। বিবৃতিতে বলা হয়, সাজেকে পিসিজেএসএস সন্তু গ্রæুপের সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেয়ার দাবিতে ডাকা শান্তিপূর্ণ সড়ক অবরোধে হামলা ও ভাঙচুরের প্রতিবাদ এবং সাজেকবাসীর ন্যায্য দাবির সমর্থনে এ কর্মসূচি পালন করা হবে বলে সংগঠনটির সভাপতি উষাতন চাকমা জানান জানান।
এর আগে রাঙামাটির বাঘাইছড়ির সাজেক পর্যটন সড়কে তৃতীয় দফায় অবরোধের ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। গত শুক্রবার বিকেলে সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা ও সাজেক গণ–অধিকার রক্ষা কমিটির আহŸায়ক বাবুধন চাকমার সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, এর আগে বাঘাইহাট ও মাচলং বাজার দুর্গাপূজা উদ্যাপন কমিটির অনুরোধে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে গত শুক্রবার থেকে বুধবার পর্যন্ত সড়ক অবরোধ কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছিল। দাবি পূরণ না হওয়ায় পূজা শেষে গত বৃহষ্পতিবার থেকে আবারও রাজপথে নামার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে আজকের মধ্যেই পর্যটকদের সাজেক ত্যাগ করার অনুরোধ জানাচ্ছি। বৃহষ্পতিবার(২২শে অক্টোবর) নিরাপত্তাবাহিনী লাঠি চার্জ, হামলা, গুলিবর্ষনের নাটকের প্রতিবাদে পুন:রায় সড়ক অবরোধ ঘোষনা দেয়।
আরো উল্লেখ্য, গত ১১ই অক্টোবর সাজেকের উজোবাজার এলাকায় সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারী এসোসিয়েশনের ডাকা সড়ক অবরোধ পালনকালে ঝর্ণা চাকমা সাংবাদিকদের সাথে কথা বলে সেনাবাহিনীর নিপীড়নের বিষয়ে তুলে ধরেন। এরপর সেনাবাহিনী ঝর্ণা চাকমাকে খোঁজ করে এবং ক্যাম্পে হাজির হতে নির্দেশ প্রদান করে।
পরে এ নিয়ে ঝর্ণা চাকমা ভিডিও বার্তার মাধ্যমে সেনাবাহিনী তাকে খোঁজ করার বিষয়টি জানায়। এর আগে থমথমে ঘটনাকে কেন্দ্র করে খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি জেলায় ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদের আধাবেলা অবরোধ শান্তিপূর্ন ভাবে পালিত হয়েছে। চতুর্থ দফা ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদের ডাকে খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি জেলায় আধাবেলা সড়ক ও নৌপথ অবরোধ কর্মসূচি সকাল ৫টা থেকে শুরু করে দুপুর ১২টায় শেষ হয়েছে। খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটিতে চলা আধাবেলা অবরোধে যান চলাচল বন্ধ ছিল।
প্রসঙ্গত, সাজেক থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির(পিসিজেএসএস) ‘সশস্ত্র সদস্যদের’ সরিয়ে নেয়াসহ তিন দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে বৃহস্পতিবার থেকে আবারও তৃতীয় দফায় রাঙামাটির সাজেক পর্যটন সড়কে অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ ডাকে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারী এসোসিয়েশন নামে স্থানীয় দুটি সংগঠন।
তবে সংগঠন দুটি পাহাড়ের আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল ইউপিডিএফ ঘনিষ্ঠ। সাজেকে জনসংহতি সমিতির সদস্যদের সশস্ত্র উপস্থিতির অভিযোগটি বরাবরই অসত্য বলে আসছে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (পিসিজেএসএস)। এ নিয়ে চার দফায় অবরোধ কর্মসূচির জেরে এখন থমথমে সাজেক উপত্যকা।






























