কলারোয়ায় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে গৃহবধুকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, স্বামীকে হত্যার হুমকি
স্টাফ রিপোর্টার : সাতক্ষীরার কলারোয়ায় অস্ত্রের মুখে শিশু বাচ্চাকে জিম্মি করে এক গৃহবধুকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে।
গত মঙ্গলবার (২৪ নভেম্বর ২০২৪) দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে উপজেলার হেলাতলা ইউনিয়নের উত্তর দিঘং (পশ্চিমপাড়া) গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
সূত্রে জানা যায়, ধর্ষিতার স্বামী মোঃ জাকির হোসেন আম্ফান ঝড়ে ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পরিবারের জীবিকা নির্বাহ ও অসুস্থ মায়ের চিকিৎসার জন্য একই গ্রামের আবুল কালামের নিকট থেকে চড়াসুদে টাকা নেন। পরে যথা সময়ে সুদের টাকা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হওয়ায় তিনি বিভিন্ন সময়ে নানা হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছিলেন।
গত মঙ্গলবার জাকির হোসেন মায়ের চিকিৎসার জন্য শহরে থাকার সুযোগে আবুল কালাম ও তার দুই সহযোগী (আশিকুর ও রহিম) দুপুর ২টার দিকে ভুক্তভোগীর বাড়িতে হামলা চালায়। এসময় তারা অকট্য ভাষায় গালি-গালাজ করে। এক পর্যায়ে আবুল কালাম ও তার সহযোগীরা ঘরে ঢুকে ৭ বছরের শিশু বাচ্চাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে জাকির হোসেনের স্ত্রী সাদিয়া খাতুন (২২) কে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে আবুল কালাম। এরপর তার দুই সহযোগীও পালাক্রমে ধর্ষণ করে।
এবিষয়ে ধর্ষিতার স্বামী জাকির হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, “আমি বাড়িতে না থাকার সুযোগ নিয়েছে ধর্ষকরা। আবুল কালামের পাওনা টাকা পরিশোধের জন্য আমি একটু সময় চাইলে তিনি সময় না দিয়ে নানাভাবে হুমকি দিয়ে আসছিল।”
এবিষয়ে থানায় কোনো অভিযোগ করেছেন কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ধর্ষক আবুল কালাম ও তার সহযোগী খুবই প্রভাবশালী, তাদের বিরুদ্ধে গিয়ে আমরা বাঁচতে পারবো না। বর্তমানে আমরা বাড়ি ছেড়ে অন্যাত্র থাকছি এবং পালিয়ে বেড়াচ্ছি। একদিকে অসুস্থ মা, অন্য দিকে আবুল কালাম বাহিনীর হুমকি-ধমকি, সব মিলিয়ে খুব অসহায় ও আতঙ্কের মধ্যে দিন পার করছি।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উঃ দিঘং গ্রামের একাধিক ব্যক্তি বলেন, “ধর্ষণের ঘটনা সত্য, তবে ধর্ষক ক্ষমতাসীন দলের ব্যক্তি হওয়ায় কেউ তার বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস পাচ্ছে না। শুধু এই ঘটনা নয়, এর আগেও তারা এমন ঘটনার জন্ম দিয়েছিল। অপরাধ করেও তারা বারবার ধরা ছোঁয়ার বাহিরে থাকে বলে দিনদিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।”
স্থানীয় ইউপি সদস্য আসাদ গণমাধ্যমকে বলেন, “বিষয়টি আমি শুনেছি। ভুক্তভোগী পরিবার বিষয়টি আমাকে জানিয়েছে। ধর্ষক আবুল কালাম বাহিনী সন্ত্রাসী ও দূবৃত্ত প্রকৃতির মানুষ।”
এ বিষয়ে কলারোয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বলেন, “আমরা এবিষয়ে কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অভিযুক্ত ব্যক্তি আবুল কালামের বক্তব্য নেওয়ার জন্য তার ব্যবহৃত মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি আমাদের গণমাধ্যমকে এই বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি না করার জন্য হুমকি প্রদান করেন।






























