রাঙ্গামাটিতে কোরবানির পশুর হাটে ১৪ মণের ‘রয়েল’ দাম সাড়ে ৬ লাখ

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রাঙ্গামাটি পৌর ট্রাক টার্মিনালের কোরবানির পশুর হাট জমে উঠতে শুরু করেছে। আর এবারের হাটে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হিসেবে নজর কেড়েছে ১৪ মণ ওজনের একটি বিশাল আকৃতির গরু, যার নাম রাখা হয়েছে ‘রয়েল’। রাঙ্গামাটি শহরের এই প্রধান হাটে আনা গরুর মধ্যে এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় বলে জানিয়েছেন হাট কর্তৃপক্ষ।
বিশাল দেহের এই ‘রয়েল’কে দেখতে হাটে দূর-দূরান্ত থেকে আসা ক্রেতা ও দর্শনার্থীরা গরুটিকে এক নজর দেখতে এবং মোবাইল ফোনে ছবি তুলতে ভিড় জমাচ্ছেন। কাঙ্ক্ষিত এই পশুর দাম হাঁকা হয়েছে সাড়ে ৬ লাখ টাকা।
রয়েলের মালিক মো. আবুল বাশার বলেন, রাঙ্গামাটির লংগদু উপজেলার কালাপাকুজ্জ্যা ইউনিয়ন থেকে এই গরুটিকে রাঙ্গামাটির পৌর ট্রাক টার্মিনাল হাটে আনা হয়েছে। সম্পূর্ণ দেশীয় ও প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে কোনো প্রকার কৃত্রিম হরমোন বা ওষুধ ছাড়াই গরুটিকে বড় করেছি। হাটে আনার পর থেকেই মানুষ ওকে দেখতে ভিড় করছে। আমি দাম চেয়েছি সাড়ে ছয় লাখ টাকা।’
হাটে রয়েলকে নিয়ে ব্যাপক শোরগোল থাকলেও এখনো পর্যন্ত কোনো ক্রেতা বিক্রেতার চাওয়া সাড়ে ৬ লাখ টাকায় গরুটি কিনতে রাজি হননি। হাটে বর্তমানে গরুটির দরদাম চলছে ৩ থেকে সাড়ে ৩ লক্ষ টাকার মধ্যে।
হাটে গরু কিনতে আসা কয়েকজন ক্রেতা জানান, কোরবানির জন্য দীর্ঘদিন ধরে প্রস্তুতি নিলেও এবার বাজারে এসে তারা দামের চাপে হতবাক।
অন্যদিকে বিক্রেতারা বলছেন ভিন্ন কথা। তাদের দাবি, গরুর দাম বাড়ার পেছনে রয়েছে পরিবহন ব্যয়, হাসিল এবং বিভিন্ন অতিরিক্ত খরচের চাপ।সব মিলিয়ে লাভের চেয়ে খরচই বেশি হয়ে যাচ্ছে বলে দাবি তাদের।
বিক্রেতারা আরও জানান, গরু লালন-পালনে খাদ্য ও চিকিৎসা ব্যয়ও আগের তুলনায় বেড়েছে। খামার পরিচালনা করতে গিয়ে অতিরিক্ত খরচ বহন করতে হওয়ায় বাধ্য হয়েই বেশি দামে গরু বিক্রি করতে হচ্ছে।
রাঙামাটি জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. আবু সাদাৎ মোহাম্মদ সায়েম জানান, চলতি বছর রাঙামাটি জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ৪৬ হাজার। এর বিপরীতে জেলায় প্রস্তুত করা হয়েছে ৫৬ হাজার পশু। অর্থাৎ চাহিদার চেয়ে ১০ হাজার বেশি পশু মজুত রয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কারণে এই বাড়তি পশুকুলাও সহজেই বিক্রি হয়ে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি আরও জানান, জেলার ১০টি উপজেলায় মোট ১৯টি পশুর হাট বসেছে। হাটে যাতে কোনো অসুস্থ পশু বিক্রি না হতে পারে, সেজন্য ভেটেরিনারি সার্জনদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল টিম সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখছে।





























