উৎসবের রঙে রাঙ্গামাটিতে শুরু হলো বর্ষবরণের আয়োজন

প্রতি বছরের মতো এবারও বাংলা নববর্ষকে স্বাগত জানাতে পাহাড়ি জেলা রাঙ্গামাটিতে নানা আয়োজন শুরু হয়েছে। বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর কাছে এই উৎসবটি বিজু, বৈসু, সাংগ্রাই, বিহু, চাংক্রান, বিষু, সাংলান, চাংক্রাই, পাতা এবং বাংলা নববর্ষ নামে পরিচিত। এই পাহাড়ি অঞ্চলের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষের কাছে নববর্ষ শুধু একটি দিন নয়, বরং এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী ঐতিহ্যবাহী উৎসব।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকালে রাঙ্গামাটি পৌরসভা প্রাঙ্গণে বিজু, সাংগ্রাই, বৈসু, বিহু, চাংক্রান, বিষু, সাংলান, চাংক্রাই ও পাতা উদযাপন পরিষদ ২০২৬-এর উদ্যোগে চারদিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধন করা হয়।
এ উপলক্ষে আয়োজিত উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক প্রকৃতি রঞ্জন চাকমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজল তালুকদার। অনুষ্ঠান সূচনা করেন সাবেক সংসদ সদস্য ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির শীর্ষ নেতা ঊষাতন তালুকদার।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ঊষাতন তালুকদার বলেন, রাষ্ট্রীয় অবহেলা, ভূমি অধিকার সংকট, পার্বত্য চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন না হওয়া এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা স্থানীয় জনগণের জন্য উদ্বেগজনক। পার্বত্য অঞ্চলকে অবহেলিত না রেখে আমাদেরকে অন্তর্ভুক্ত করুন। আমরা বাংলাদেশের নাগরিক। পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যা সমাধান জাতীয় ও রাজনৈতিক ইস্যু, স্বদিচ্ছা থাকলে অবশ্যই সমাধান সম্ভব।
অনুষ্ঠান শেষে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা রাঙ্গামাটি পৌরসভা প্রাঙ্গণ থেকে বের হয়ে জেলা শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। এতে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর তরুণ-তরুণীরা নিজ নিজ ঐতিহ্যবাহী পোশাকে অংশ নিয়ে উৎসবে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেন। শোভাযাত্রার পর রাঙ্গামাটির চিংহ্লামং মারী স্টেডিয়ামে শুরু হয় চারদিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালা।
৯ থেকে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত চলা এই চারদিনব্যাপী আয়োজনে রয়েছে ঐতিহ্যবাহী নৃত্য, লোকজ খেলাধুলা ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
আগামী ১২ এপ্রিল নদীতে ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে শুরু হবে বর্ষবরণের মূল আনুষ্ঠানিকতা। ১৩ এপ্রিল পালিত হবে মূল বিজু, এদিন নানা সবজি দিয়ে প্রস্তুত করা হবে ঐতিহ্যবাহী টক-ঝাল-মিষ্টি স্বাদের ‘পাঁজন’। আর ১৪ এপ্রিল পালিত হবে গজ্জাপজ্জা বা পহেলা বৈশাখ।



























