খুলনার ডুমুরিয়ায় মসজিদের মুয়াজ্জিনকে গলা কেটে হত্যার চেষ্টা, আইসিইউতে জীবন-মৃত্যুর লড়াই

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার সাহস ইউনিয়নে এক মসজিদের মুয়াজ্জিনকে গলা কেটে হত্যার চেষ্টা করেছে দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ভোরে ফজরের নামাজের আগে সাহস-নোয়াকাটি বাজার জামে মসজিদের অদূরে এ ঘটনা ঘটে।

গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সর্বশেষ তিনি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ)-তে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আহত মুয়াজ্জিনের নাম কারিমুল ইসলাম (ওরফে কারিমুল গাজী)। বিভিন্ন সূত্রে তার বয়স নিয়ে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। তিনি ডুমুরিয়া উপজেলার সাহস ইউনিয়নের ঘোষঘাতী গ্রামের কাশেম গাজীর ছেলে এবং প্রায় তিন থেকে চার বছর ধরে সাহস-নোয়াকাটি বাজার জামে মসজিদে মুয়াজ্জিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

মসজিদের ইমাম মো. আবুল হোসেন সরদার জানান, প্রতিদিনের মতো বুধবার রাতে এশার নামাজ শেষে কারিমুল মসজিদে তালা লাগিয়ে বাড়ি যান। বৃহস্পতিবার ভোরে ফজরের আযান দেওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি বাড়ি থেকে বের হন। তবে আযানের নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও তিনি মসজিদে না পৌঁছালে বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হয়।

তিনি বলেন, “আমি তার মোবাইল ফোনে কল দিলে তার স্ত্রী ফোন রিসিভ করে জানান, তিনি অনেক আগেই মসজিদের উদ্দেশ্যে বের হয়েছেন। পরে বিকল্প চাবি দিয়ে মসজিদের তালা খুলে আযান ও ফজরের নামাজ সম্পন্ন করি। নামাজ শেষে মুসল্লিদের নিয়ে তাকে খুঁজতে বের হই। পরে খবর পাই, তিনি মসজিদের অদূরে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন। ধারণা করা হচ্ছে, মসজিদে যাওয়ার পথেই দুর্বৃত্তরা তার ওপর হামলা চালিয়েছে।”

স্থানীয় মুসল্লিরা জানান, ফজরের নামাজ আদায়ের জন্য তারা মসজিদে এসে দেখেন, দরজায় তালা ঝুলছে এবং মুয়াজ্জিনের কোনো খোঁজ নেই। পরে মসজিদ থেকে প্রায় ১০০ গজ দূরে একটি গ্রামীণ সড়কের পাশে তাকে গলা কাটা ও রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান এবং পুলিশকে খবর দেন।

আহতের স্ত্রী মুর্শিদা বলেন, “আমার স্বামী প্রতিদিনের মতো রাত তিনটার দিকে মোবাইলের অ্যালার্মে ঘুম থেকে উঠে মসজিদের উদ্দেশ্যে বের হন। আমি ঘরের কাজ ও নামাজে ব্যস্ত ছিলাম। পরে ফজরের নামাজ শেষে ইমাম সাহেব ফোন করে জানতে চান, তিনি মসজিদে কেন যাননি। তখন আমি হতবাক হয়ে যাই।

প্রথমে ভেবেছিলাম, অসুস্থ শ্বশুরের কাছে গেছেন। পরে খুঁজতে বের হয়ে বাড়ির পাশের রাস্তায় তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখি। তিনি কথা বলতে পারছিলেন না, শুধু মাথা নেড়ে সাড়া দিচ্ছিলেন। আমি শাশুড়িকে ডেকে এনে স্থানীয়দের সহযোগিতায় হাসপাতালে নিয়ে যাই। পরে চিকিৎসকদের কাছ থেকে জানতে পারি, তার গলা কেটে জবাই করার চেষ্টা করা হয়েছে।”

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কারিমুল ইসলামের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন স্বজনরা। চিকিৎসকরা তাকে আইসিইউতে রেখে নিবিড় পর্যবেক্ষণে চিকিৎসা দিচ্ছেন।

এদিকে, ডুমুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার হাফিজুর রহমান গণমাধ্যমকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। হামলার সঙ্গে কারা জড়িত এবং কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনার পর সাহস ইউনিয়ন ও আশপাশের এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। ভুক্তভোগীর পরিবারও হত্যাচেষ্টার ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে।