রংপুরের পীরগঞ্জের ভেন্ডাবাড়ী ডিগ্রী কলেজ অধ্যক্ষের আত্নগোপন

রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার ভেন্ডাবাড়ী ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর আলম (ইনডেক্স নং- R017496) কলেজের দায়িত্বভার প্রদান না করেই আত্নগোপন করেছেন মর্মে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ক’দিন আগে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের আশায় বেশ দৌড়ঝাঁপ করেন তিনি।

বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চাকরিবিধি অনুযায়ী ২২ নভেম্বর’২০২৩ তারিখে ৬০ বছর পূর্তি হওয়ায় অবসরে যাওয়ার কথা। কিন্তু তিনি অবসরে না গিয়ে এবং দায়িত্বভার কাউকে না বুঝিয়ে দিয়ে গভর্নিং বডিকে ম্যানেজ করে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ নিয়ে স্বপদে বহাল থাকার জন্য জোর তদ্বির চালিয়ে যাচ্ছেন।

নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর আলম যদি চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ অনুমোদনে ব্যর্থ হন তাহলে বিধি অনুযায়ী উপধাক্ষকে দায়িত্ব না দিয়ে তার পছন্দসই কোন শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দিয়ে চলে যাবেন। জাহাঙ্গীর আলম অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালনকালে ঘুষ বাণিজ্য, অবৈধ নিয়োগ, অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে একাধিকবার অভিযুক্ত হয়েছেন। পাবলিক পরীক্ষায় দায়িত্ব পালনে অবহেলাসহ দুর্নীতি ও অনিয়মের কারণে কলেজের সুনাম যেমন ক্ষুন্ন হয়েছে তেমনি ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশুনার স্বাভাবিক পরিবেশ দারুণভাবে ব্যাহত হয়েছে।

অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর আলম তার দায়িত্ব থাকাকালে লক্ষ লক্ষ টাকা ঘুষ নিয়ে তিনি অতিরিক্ত অনেক শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ দিয়ে এমপিওভূক্ত করার মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে রেখেছেন। তিনি অবসরে গেলে এমপিও না হওয়া ওইসব শিক্ষক-কর্মচারীরা যাতে চাপ প্রয়োগ না করতে পারে এবং অনিয়ম দুর্নীতি যেন সহসা প্রকাশ না হয় এজন্য তিনি অধ্যক্ষের কক্ষে তালা লাগিয়ে দিয়ে ও কলেজের দায়িত্বভার বুঝে না দিয়ে হঠাৎ আত্নগোপনে চলে যান। অধ্যক্ষের কক্ষ বন্ধ থাকায় কলেজের শিক্ষক-কর্মচারী, শিক্ষার্থীদের প্রাতিষ্ঠানিক নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে প্রতিনিয়ত। তিনি নানাভাবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মাধ্যমে চাকুরীকাল পুনর্বহালের জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর আলম চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে পুনর্বহাল হতে না পারলে কলেজের উপাধ্যক্ষকে দায়িত্ব না দিয়ে তার অনুগত কোন শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দিবেন যাতে তার দুর্নীতি ও অনিয়মগুলো আড়াল করে রাখতে পারে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কলেজের একাধিক শিক্ষক-কর্মচারী জানায়, জাহাঙ্গীর আলমের মতো দুর্নীতিবাজ ব্যক্তি আবারও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পায় অথবা তিনি উপাধ্যাক্ষ ব্যতীত অন্য কাউকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেন তাহলে সাধারণ শিক্ষক-কর্মচারী, অভিভাবক এবং এলাকাবাসী কেহই মেনে নেবেন না। তাই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।

এ ব্যাপারে ভেন্ডাবাড়ী ডিগ্রী কলেজের সভাপতি সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল হক জানান, অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর আলম আর তাঁর পদে নেই। কলেজের দায়িত্বভার কাকে দেয়া হয়েছে এমন প্রশ্নের উত্তর তিনি এড়িয়ে যান।

এ বিষয়ে ভেন্ডাবাড়ি ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।